বা ঙা ল না মা

বাঙালনামাঃ চতুর্থ সংখ্যা

Posted by bangalnama on December 31, 2009

।। একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি ।।


কৈফিয়ৎ

বছরের শেষটা এককথায় দারুণ-ই হলো, চির প্রতিদ্বন্দ্বীর গোলে দুবার বল ঠেলার মধুর প্রতিশোধকেই তো মধুরেণ সমাপয়েৎ বলে! তো, এই আনন্দমুখর সকালটিতে খবরের কাগজের খেলার পাতা ওল্টানো হয়ে গেলে সবচেয়ে সমীচীন হবে বাঙালনামার ওয়েবপেজটি ব্রাউজ করা- আর, আজকেই আমরা হাজির চতুর্থ সংখ্যা নিয়ে। বৃটিশ-ভারতে ঢাকা বেতারকেন্দ্রের প্রথম কর্মচারীদের একজনের সন্তান বিংশ শতাব্দীর শেষ চ্যাপ্টারে এসে কলকাতার মঞ্চে গাইলেন- ‘দেখবো তোমার অশ্রু দিয়ে কলকাতাটাই ঢাকা’। সুরের দেশভাগ হয় না, বরং সুর দিয়েই কখনও মুছিয়ে দেওয়া যায় কাঁটাতারের বেড়া, সীমান্তে বিএসএফ-বিডিআর, কনসুলেটে ভিসার হয়রানি। এপার বাংলা-ওপার বাংলার মধ্যে সেই গানের চরটির প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করলেন ঋতব্রত ঘোষ, এবারের প্রচ্ছদ নিবন্ধে। সঙ্গীতের পাশাপাশি সিনেমার আঙিনা – দুই প্রবাদপ্রতিম বাঙাল চিত্রপরিচালকের কাজ নিয়ে লেখা থাকলো। আর কালকের ডার্বি জয়ের আনন্দে আরেকটু বলবর্ধক হিসেবে জুটে গেল ষাটের দশকের ময়দান কাঁপানো ইস্টবেঙ্গল-অধিনায়ক সুকুমার সমাজপতির ইন্টারভিউটি। এর সঙ্গে রইলো নিয়মিত বিভাগগুলি। বাঙালপনার স্মৃতিচারণ, বাঙালের ডায়েরি; শুরু হলো আরেকটি ধারাবাহিক গল্প।


দেশভাগ ও দেশভাগ পরবর্তী উদ্বাস্তু মানুষের লড়াইয়ের ইতিহাস ধরে রাখতে বাঙালনামা নিজের প্রতিই দায়বদ্ধ, সেই দায়ভাগ থেকে মরিচঝাঁপি গণহত্যার উপর একটি বইকে আলোচনায় রাখা হলো। পাঠকের কাছে আশা জানানো হলো তাঁরাও খুঁজতে থাকবেন এই উপেক্ষিত, না-জেনে-ওঠা বর্বরতার কাহিনীগুলি। খুঁজে পেতে থাকবেন সমস্ত প্রতিকূলতা ও রাজনৈতিক-সামাজিক আক্রমণের মুখে দাঁড়িয়ে পূর্ববঙ্গ থেকে ভিটেমাটি হারিয়ে আসা নিরন্ন নিরাশ্রয় মানুষের বুকে বুকে ইতিহাস রচনার আলেখ্য।

***


সূচীপত্র

প্রচ্ছদনিবন্ধ
‘…..তারই কিছু রং’ – ঋতব্রত ঘোষ

সাক্ষাৎকার
‘খেলতে হলে প্রপার মোহনবাগান একাদশেই খেলবো, ওদের জুনিয়র টিমের
হয়ে নয়’
– অনির্বাণ দাশগুপ্তর সাথে আলাপচারিতায় সুকুমার সমাজপতি

সিনেমা
দ্বান্দ্বিকতার রূপরেখাঃ সত্যজিৎ রায়ের ‘ক্যালকাটা ট্রিলজি’ এবং
সমকালীন নীতি ও মূল্যবোধ
– দিব্যকুসুম রায়
বিমল চিত্র-কথা – ইন্দ্রনাথ মুখার্জী


প্রচ্ছদ: অভীক্স
৩১শে ডিসেম্বর, ২০০৯

ধারাবাহিকঃ বাঙালের ডায়েরি
বাঙালবৃত্তান্ত – রঞ্জন রায়
সেই সময়ের গল্প – সন্তোষ কুমার রায়

ধারাবাহিকঃ গল্প
জীবন তরীর সফর – অরুণাভ দে

বইপত্র
মরিচঝাঁপি ছিন্ন দেশ, ছিন্ন ইতিহাসঃ একটি প্রিভিউ
নীরবতার সংলাপ – অমিয় চৌধুরী

Posted in Bangal | 2 Comments »

‘…..তারই কিছু রং’

Posted by bangalnama on December 31, 2009

“তিনটে এক্সট্রা হবে, দাদা?”


তখনও অর্কুট আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলেনি জীবনকে। স্কুল-কলেজের কয়েকজন ছাড়া খুব একটা বন্ধুত্বও নেই বিশেষ কারুর সঙ্গে। ফলে শহরে কি কি ঘটছে বা ঘটতে চলেছে, চটজলদি খবরও পাই না। এমনি কোনো এক শুক্রবার কলেজে গিয়ে খবরটা পেয়েই সোজা কলামন্দির।


সেই প্রথম, একা। হলের সামনে ইতিউতি জটলা, সবাই সব্বাইকে চেনে বোধহয়। বড় একা লেগেছিল। আঁধার তখনও নামেনি যদিও। সাড়ে ছ’টা থেকে অনুষ্ঠান হলেও চলে এসেছি সওয়া পাঁচটা নাগাদ। টিকিট নেই সঙ্গে, অথচ কাউন্টারেও কেউ নেই। কি যে করা উচিত সেটাই বুঝতে পারছি না। একা কোণে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছিলেন কুর্তা-পরা এক ভদ্রলোক, সাহস করে তাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম-


“আচ্ছা, টিকিট কোথায় পাওয়া যাবে?”

বাকি অংশটি এখানে পডু়ন…

Posted in Calcutta, Culture, Music, Poetry | Tagged: , , , | 9 Comments »

‘খেলতে হলে প্রপার মোহনবাগান একাদশেই খেলবো, ওদের জুনিয়র টিমের হয়ে নয়’

Posted by bangalnama on December 31, 2009

কে না জানে বাঙালের অস্তিত্বের একটা বলিষ্ঠ উচ্চারণ ইস্টবেঙ্গল ফুটবল ক্লাব। এই স্বরটিকে সম্মান জানিয়ে বাঙালনামা শুরু করলো ইস্টবেঙ্গল-সিরিজ। অতীত ও বর্তমানের ইস্টবেঙ্গল মহারথীদের নিয়মিত সাক্ষাৎকার প্রকাশের পরিকল্পনা থাকলো। এই সংখ্যায় রাখা হলো বাংলা ফুটবলের স্বর্ণোজ্জ্বল ষাটের দশকের বিখ্যাত ফুটবলার সুকুমার সমাজপতির সাক্ষাৎকারের প্রথম ভাগটি। বাঙালনামার পক্ষ থেকে সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অনির্বাণ দাশগুপ্ত


বাঙালনামা।। আপনার ছোটবেলার কিছু কথা বলুন-


সুকুমার সমাজপতি।। আমাদের আদি বাড়ি, অর্থাৎ আমার বাবার ছোটবেলা কেটেছে ফরিদপুরে। আমার নিজের জন্ম মামাবাড়িতে, পাবনা জেলার রতনগঞ্জ গ্রামে। আমার বেড়ে ওঠা এরপর থেকে কলকাতাতেই, ছোটবেলায় সাউথ সাবার্বান ইস্কুলে ভর্তি হই। সেখান থেকে প্রথম বিভাগে ইন্টারমিডিয়েট উত্তীর্ণ হয়ে আশুতোষ কলেজে জিওলজি নিয়ে পড়াশোনা করেছি।


বাঙালনামা।। আপনার বাড়িতে কি খেলাধুলোর পরিবেশ ছিল? খেলার প্রতি আগ্রহ কি বাড়ির থেকেই পাওয়া?


সুকুমার সমাজপতি।। দ্যাখো, বাড়ির কথা বলতে গেলে বলতে হয়, সেদিক থেকে আমি ভীষণ ভাগ্যবান ছিলাম, খেলাধুলো এবং সংস্কৃতি-চর্চার দু’টো ধারাই আমাদের বাড়িতে সমান্তরালে বইতো। আমার বাবা, স্বর্গীয় কালিপদ সমাজপতি খুব ভালো আঁকতেন। এই যে দেওয়ালে অয়েল-পেইন্টিংগুলো দেখছো, এইগুলো ওঁর-ই আঁকা। তার সঙ্গেই উনি ফার্স্ট ডিভিশনে কালিঘাটের হয়ে ফুটবলও খেলতেন। আমার ঠাকুরদা, স্বর্গীয় নিবারণচন্দ্র সমাজপতি ছিলেন সেযুগের বিখ্যাত কীর্তন-গাইয়ে। কাকারাও খেলাধুলোয় উৎসাহী ছিলেন… তাই, খেলাধুলো নিয়ে উৎসাহ আমি বাড়ির সবার কাছ থেকেই পেয়েছি।

বাকি অংশটি এখানে পডু়ন…

Posted in Bangal, Calcutta, East Bengal, Football, Interviews, Memoirs, Mohanbagan, Music | Tagged: , , , , , , , , , , , , , , , , | Leave a Comment »

দ্বান্দ্বিকতার রূপরেখা : সত্যজিৎ রায়ের ‘ক্যালকাটা ট্রিলজি’ এবং সমকালীন নীতি ও মূল্যবোধ

Posted by bangalnama on December 31, 2009


‘প্রতিদ্বন্দ্বী’, ‘সীমাবদ্ধ’ এবং ‘জন অরণ্য’- সত্যজিৎ রায়ের ‘ক্যালকাটা ট্রিলজি’ সম্পর্কে লিখিত ও পঠিত বিশ্লেষণের সংখ্যা কোনোভাবেই কম নয়। পরিসরের স্বল্পতা এবং লেখকের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কথা বিবেচনা করেই বর্তমান রচনার শিরোনামটি ভাবা হয়েছে। নৈতিকতা
(ethics) এবং মূল্যবোধের (morality) সঠিক সংজ্ঞা নিরুপণ করা আজও পুরোপুরি সম্ভব হয়ে ওঠেনি। কাজটা আরো কঠিন হয়ে যায় যখন প্রেক্ষাপট হিসাবে থাকে সাহিত্য বা সিনেমার মত মাধ্যম, সমকালীন শব্দকোষ অনুযায়ী যাদের ‘high art’ বলা যেতে পারে। অতি সরলীকরণ দোষে দুষ্ট হওয়ার ঝুঁকিটুকু নিয়েই বর্তমান প্রবন্ধে নৈতিকতা এবং মূল্যবোধকে দুটি সামান্য আলাদা আদর্শ হিসাবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। ফরাসি দার্শনিক ও নব্য ইতিহাসবাদের প্রবক্তা Michael Foucault-এর অনুকরণে বলা যেতে পারে – নৈতিকতা একপ্রকার সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং মূল্যবোধের দায়বদ্ধতা ব্যক্তিবিশেষের কাছে। এই আপাত-সরল উক্তির মধ্যে অবশ্য এক গভীর ব্যঞ্জনার আভাস পাওয়া যায়। বিশেষ করে ১৯৮২ সালের রণজিত গুহ’র ‘সাবঅল্টার্ণ স্টাডিজ’-এর প্রচারের ফলে আমরা জেনেছি সামাজিক মানুষের অবস্থান কোনো স্বয়ংক্রিয় ঘটনা নয় – তা নির্ভর করে ব্যক্তিবিশেষের আর্থসামাজিক অবস্থান, বড় হয়ে ওঠা, ভাষা আর নানাবিধ মানসিক আদান-প্রদানের উপর। যদিও সমাজবদ্ধ কোনো ব্যক্তিবিশেষই এই আবর্তের বাইরে নন, সত্যজিৎ রায় তাঁর ফিল্মগুলির মাধ্যমে এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে চেয়েছেন যাকে সেলফ-রিফ্লেক্সিভ বলা চলে। নিজের অবস্থানের অমোঘতাকে স্বীকার করেই সত্যজিৎ তাঁর চরিত্রগুলির মাধ্যমে সেই অমোঘতার কারণগুলি দেখাতে চান। বর্তমান প্রবন্ধের দ্বিতীয় ও শেষ পয়েন্টগুলিও এই সেলফ-রিফ্লেক্সিভিটির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সত্যজিতের ছবিতে ভিক্টোরিয়ান এবং আধুনিক মূল্যবোধের দ্বান্দ্বিক অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট, এবং সাধারণ বিনোদনের সীমানা ছাড়িয়ে ক্যালকাটা ট্রিলজি এভাবেই হয়ে ওঠে গুরুত্বপূর্ণ এক সামাজিক দলিল যা স্রষ্টা, চরিত্র এবং পাঠক – এই তিন গোষ্ঠিকে সচেতন করে দেয় তাদের অবস্থানগত সীমাবদ্ধতা এবং দ্বান্দ্বিকতা সম্পর্কে। বিভিন্ন চমকপ্রদ সিনেম্যাটিক প্রযুক্তির সাহায্যে ‘সীমাবদ্ধ,’ ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ এবং ‘জন অরণ্য’ আমাদের এই উপলব্ধির মুখেই দাঁড় করিয়ে দেয়।

বাকি অংশটি এখানে পডু়ন…

Posted in Bangal, Calcutta, Cinema, Cinema Reviews, Postcolonialism, Thespian | Tagged: , , , , , , , , | 3 Comments »

বিমল চিত্র-কথা

Posted by bangalnama on December 31, 2009

“With his very first film Udayer Pathe (Hamrahi in Hindi), Bimal Roy was able to sweep aside the cobwebs of the old tradition and introduce a realism and subtlety that was wholly suited to the cinema. He was undoubtedly a pioneer. He reached his peak with a film that still reverberates in the minds of those who saw it when it was first made. I refer to Do Bigha Zamin, which remains one of the landmarks of Indian Cinema.” – Satyajit Ray.


বিমল রায় কতটা উঁচু দরের পরিচালক ছিলেন তার স্বীকৃতি পাওয়া যায় ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্রথম পুরুষ সত্যজিৎ রায়ের এই উক্তি থেকে। ‘বিমলদা’র চলচ্চিত্র জীবন শুরু কলকাতায় ক্যামেরাম্যান হিসাবে এবং পরবর্তী তিরিশ বছর তিনি সঁপে দিয়েছিলেন ভারতীয় সিনেমায়।


সন ১৯০৯-এর ১২ই জুলাই অধুনা ঢাকার এক জমিদার বাড়িতে জন্ম হয় বিমল রায়ের। জগন্নাথ কলেজে পড়াকালীন বাবা মারা যান এবং তার পরপরই জমিদারির এস্টেট ম্যানেজারের সৌজন্যে তাঁরা সর্বস্বান্ত হন। মা ও ছোট ভাইকে নিয়ে বিমলদা চলে আসেন কলকাতায়। ক্যামেরার প্রতি অসম্ভব ঝোঁক ছিল ছোটবেলা থেকেই। সেই সুবাদেই প্রমথেশ বড়ুয়ার ছায়াছবির প্রচারের জন্য ছবি তোলার কাজ পান। এর কিছুদিনের মধ্যেই নীতিন বোস তাঁকে নিউ থিয়েটার্সে ডেকে নেন সহকারী ক্যামেরাম্যান হিসেবে। প্রথম বড় মাপের সাফল্যের স্বাদ ১৯৩৫-এ প্রমথেশ বড়ুয়ার ‘দেবদাস’-এর সিনেমাটোগ্রাফার ও সহকারী পরিচালক হিসেবে। ৩০-এর দশকের শুরুতে ব্রিটিশ সরকারের হয়ে দুটি তথ্যচিত্র তৈরী করেছিলেন তিনিঃ
‘How Kerosene Tins are made’ আর ‘Grand Trunk Road’; কিন্তু এই ছবি দুটি নিয়ে আজ আর বিশেষ কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। প্রমথেশ পড়ুয়ার সেই সময়ের ছবি ‘মুক্তি’, ‘মায়া’, ‘বড়ি দিদি’-তেও সিনেমাটোগ্রাফার ছিলেন বিমল রায়।

বাকি অংশটি এখানে পডু়ন…

Posted in Cinema, Thespian | Tagged: , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , | 19 Comments »

বাঙালবৃত্তান্ত ঃ পর্ব দুই

Posted by bangalnama on December 31, 2009

(প্রথম পর্বের পর)


হাজরাদি’ পরগণা


একজন নামজাদা গল্পবলিয়ে অনেক অনুরোধ-উপরোধে ঢঁেকিগিলে গলাখাঁকারি দিলেন। আড্ডার সবাই নড়েচড়ে বসলো।
- “আমার একটা শর্ত আছে; এখানে হাজরাদি’ পরগণার কেউ হাজির থাকলে বলে ফেলুন। তাহলে আমি আর মুখ খুলছিনে।”
সবাই চুপচাপ। বক্তা সবার মুখে একবার চোখ বুলিয়ে নিয়ে গল্প শুরু করলেন।
- “এক যে ছিল নদী, আর তার পাড়ে ছিল এক গাছ। তার পাতার এমনি গুণ যে তা’ জলে পড়লে হয় কুমির, আর ডাঙায় পড়লে বাঘ।”
- “আচ্ছা, যদি পাতাটা অর্ধেক জলে পড়ে আর অর্ধেক ডাঙায়! তা’হইলে কি দশা হইব? খুইল্যা ক’ন মশয়!”
সবার অবাক করা চোখ এখন নতুন বক্তার দিকে।
- “এই যে, সত্যি কথাটা আগেভাগে কেন স্বীকার করলেন না! বলেছিলুম না হাজরাদি’ পরগণার লোকের সামনে মুখ খুলব না!”


এই ‘কিসসা’টি শুনিয়ে আমার বাবা ফোড়ন কাটলেন,- “বুঝলে তো, এই হল তোমাদের হাজরাদি’ পরগণার লোক। এমন কুতর্ক! ভূ-ভারতে জোড়া পাওয়া ভার। যেমন তোমাদের নীরদ চৌধুরিমশায়।”
পিতৃদেব নীরদ চৌধুরিমশায়ের ইতিহাসবোধ ও মেঠো রসিকতা দু’টোই অপছন্দ করতেন। সেদিন প্রসঙ্গ ছিল নীরদবাবুর “দেশ” পত্রিকায় ‘হিন্দুর মেয়ের মুসলমানি পোশাক’ নামে সদ্যপ্রকাশিত প্রবন্ধটি।
- “কিন্তু ওনার বাড়ি তো যদ্দুর জানি আজকের বাংলাদেশের মৈমনসিং জেলার কিশোরগঞ্জ মহকুমায়।” আমি ফুট কাটি।
- “তোমাদের নিয়ে এইতো মুশকিল। লেখাপড়াটা ভাল করে করলে না। পড়েছ শুধু ‘কম্যুনিস্ট ম্যানিফেস্টো’, তা’ও সবটা নয়, মেরেকেটে হর্মন বা অস্ট্রিয়ান সংস্করণের ভূমিকাটুকু। তবু তর্ক করা চাই।- শোন, শের শাহ সুরি খাজনা আদায়ের সুবিধের জন্যে গোটা দেশটাকে অনেকগুলি পরগণায় ভাগ করেছিলেন। কিশোরগঞ্জ মহকুমার প্রায় সবটাই হাজরাদি’ পরগণার মধ্যে পড়ে।”

বাকি অংশটি এখানে পডু়ন…

Posted in Bangal, Childhood, Culture, Left movements, Memoirs, Mymensingh, Personal Recounts, Politics | Tagged: , | 1 Comment »

সেই সময়ের গল্প – পর্ব এক

Posted by bangalnama on December 31, 2009

সাবেক পুর্ব পাকিস্তান থেকে প্রথম দফায় যাঁরা ভারতে এসেছিলেন আমি তাঁদের দলের। সেই ১৯৫১ সালের আগস্ট (শ্রাবণ) মাসে বছর দশেক বয়সে পুর্ববঙ্গ ছেড়েছি। সেই বয়সের স্মৃতি প্রায় ষাট বছর পর মনে থাকাটা মুশকিলই বটে। তবে ভুলে যাওয়াও হয়ে ওঠেনি।


পাবনা শহর থেকে আমাদের পরিবারের সবাই ১৯৪৮এ কলকাতা চলে এলেও আমার আসা হয় নি। কারণ ঐ সময় আমি মামার বাড়ি ছিলাম। তাই পরে আসা।


ছোট বয়স থেকে নিরিবিলিতে থাকতে অভ্যস্ত আমি প্রথমেই ঘাবড়ে গেছিলাম রেলগাড়ীতে চড়ার জন্য উদগ্রীব মানুষের সংখ্যা দেখে। প্ল্যাটফর্মবিহীন একটা হল্ট স্টেশনে গিসগিস করছে লোক । দূর থেকে ইঞ্জিনের আলো দেখামাত্র সবাই যে যারমত প্রস্তুতি নিতে শুরু করাতে আমার মনে যে কি চাঞ্চল্য জেগেছিল সেটা আজও মনে আছে। বেশ মনে আছে আমাকে জানালা দিয়ে কামরায় ঢুকিয়েছিলেন বড়মামা আর কেউ একজন টেনে নিয়েছিল। স্টেশনের নাম ছিল সম্ভবত ভাঙ্গুরা।

বাকি অংশটি এখানে পডু়ন…

Posted in Bangal, Childhood, Memoirs, Migration, Pabna, Personal Recounts, Refugees and Settlers, partition | Tagged: , , , , , , , , | Leave a Comment »

জীবন তরীর সফর – পর্ব এক

Posted by bangalnama on December 31, 2009

প্রাক-কথন ঃ এই লেখাটা সম্পর্কে কয়েকটা কথা বলার আছে। এটা একটা জীবনকথা হয়েও ঠিক জীবনকথা নয়। এটা একজন অত্যন্ত সাধারণ মানুষের বড় হয়ে ওঠার গল্প, তাঁর বাল্যকাল থেকে বার্ধক্যে পৌঁছনোর কাহিনী। তাঁর চোখ দিয়ে দেশভাগ আর তার প্রভাবকে ফিরে দেখা, আর সময়ের দ্রুত বদলে যাওয়া-কে মাপার চেষ্টা করা। এই লেখার রসদ কিছুটা তাঁর নিজের মুখ থেকে শোনা, কিছুটা আশপাশের লোকের মুখ থেকে, আর বাকিটা বিভিন্ন সময়ে ওঁর কথাবার্তা থেকে আন্দাজ করে নেওয়া। সেই জন্যই এটা গল্প, জীবনী নয়। ওঁর জীবনের ইতিবৃত্তের এই Jigsaw Puzzle টা কতটা সমাধান করতে পেরেছি, মানে ছবিটা কতটা স্পষ্ট আর উপভোগ্য হয়েছে, সেটা পাঠক বিচার করবেন। শুধু একটা কথা – লেখাটার যা কিছু খামতি তার দায় আমি মাথা পেতে নিলাম; আর এটার মধ্যে উপাদেয় কিছু থেকে থাকলে তা বাঙালনামার সম্পাদকদের কৃতিত্ব। ওরা আমাকে দিয়ে লিখিয়ে না নিলে এই লেখার জন্ম সম্ভব ছিলনা।

***

আস্তে আস্তে আকাশটা পরিষ্কার হচ্ছে। তারাগুলো টুপ টুপ করে ডুবে যাচ্ছে। উঁচু উঁচু গাছের মাথাগুলো একটু একটু করে দেখা যাচ্ছে। এখনো সূর্য উঠতে দেরি আছে। শীতের সকাল হালকা একটা কুয়াশার চাদর গায়ে জড়িয়ে রেখেছে। পুকুরের জলের ওপরে পাতলা দুধের সরের মত কুয়াশা ভাসছে। হঠাৎ এই নিস্তব্ধ পরিবেশের মধ্যে একটা কাক ডেকে উঠল, তারপরে এক এক করে আরো কয়েকটা…। এক মুহূর্তে যেন আলোও অনেকটা বেড়ে গেল। আরেকটা দিন শুরু হয়ে গেল।


ঠিক এই সময়ে শ্যামের ঘুম ভাঙল। রোজই এই সময়েই ঘুম ভাঙে। কিছুটা অভ্যেসে, কিছুটা বাবা’র গম্ভীর স্বরে গীতা’র শ্লোক আবৃত্তির আওয়াজে। বাবা রাখালচন্দ্র স্থানীয় সাব-ডিভিশনাল স্কুলের সেকেন্ড মাস্টার, একডাকে এই মাদারিপুর শহরের সকলে চেনে, ইংরেজি আর সংস্কৃত পড়ান। সম্পূর্ণ গীতা রাখালচন্দ্রের মুখস্থ। প্রত্যেকদিন সকালে উঠে তারই খানিকটা করে আবৃত্তি করেন তিনি, বালক শ্যাম ঘুম ভেঙে বিছানায় শুয়ে শুয়ে শোনে আর মাথার কাছের খোলা জানলাটা দিয়ে আকাশটাকে আস্তে আস্তে পরিষ্কার হতে দেখে লেপের ভেতর থেকে মাথা বের করে। বাবার আবৃত্তি শেষ হয়, শ্যামও লেপের মধ্যে থেকে বেরিয়ে চাদরটা ভালো করে গায়ে জড়িয়ে নেয়। বাবা হাসিমুখে জিজ্ঞেস করেন, “কি রে খোকা! এত তাড়াতাড়ি উঠে পড়লি?” শ্যাম কোনো উত্তর না দিয়ে হাসিমুখে একটা দাঁতন নিয়ে ছুটে যায় পুকুরপাড়ে। পুকুরের জলের দিকে তাকিয়ে থাকে, যেখানে হালকা কুয়াশা ভাসছে। হঠাৎ কোথা থেকে একটা মাছরাঙা জলে ঝাঁপ দেয় আর মুহূর্তে টুকরো টুকরো হয়ে যায় জলের শান্ত সমাহিত রূপ। শ্যাম চোখ খুলে তাকায় দূরের মাঠের দিকে। দিগন্তে সু্য্যিঠাকুর উঠি উঠি করছেন, রোজকার আবির খেলা শুরু হয়ে গেছে। শ্যাম চাদরটাকে ভালো করে গায়ে জড়িয়ে নিয়ে তাকিয়ে থাকে ওইদিকে। রোজের দেখা দৃশ্যেরই পুনরাবৃত্তি দেখবার জন্যে মনে মনে তৈরি হয়।

বাকি অংশটি এখানে পডু়ন…

Posted in Childhood, Memoirs, Personal Recounts, Stories, partition | Tagged: , , | 1 Comment »

মরিচঝাঁপি ছিন্ন দেশ, ছিন্ন ইতিহাস ঃ একটি প্রিভিউ

Posted by bangalnama on December 31, 2009

মরিচঝাঁপি
ছিন্ন দেশ, ছিন্ন ইতিহাস


সম্পাদনা ঃ মধুময় পাল
প্রকাশক ঃ গাঙচিল
মূল্য ঃ ২৭৫ টাকা


দোসরা জানুয়ারী ২০১০-এ “মরিচঝাঁপিঃ ছিন্ন দেশ, ছিন্ন ইতিহাস” প্রকাশিত হচ্ছে। দেশভাগের বেদনাদায়ক ইতিহাসের অন্যতম কলঙ্কময় অধ্যায় মরিচঝাঁপি। অন্যতম উপেক্ষিত পর্বও বটে। ১৯৭৮-৭৯ সালে সুন্দরবনের দুর্গম জনহীন দ্বীপ মরিচঝাঁপিতে দন্ডকারণ্য থেকে আসা উদ্বাস্তুদের বসতি গড়ার চেষ্টা এবং সরকারের তরফে বিরোধিতার ঘটনা কেউ মনে রেখেছে, কেউ রাখেনি। বিচ্ছিন্নভাবে কিছু লেখালেখি আর প্রতিবাদ সভা হয়েছে। কিন্ত প্রান্তজনের ডাকে সেইদিন হয়ত সেইভাবে সারা দেয়নি বাংলার নাগরিক সমাজ। ঘটনার পর কেটে গেছে সুদীর্ঘ তিরিশ বছর। রিপ ভ্যান উইঙ্কলের ঘুম নন্দীগ্রাম-সিঙ্গুরের গণহত্যার প্রাক্কালে ভেঙেছে। ঘুরে ফিরে উঠে এসেছে মরিচঝাঁপির রক্তাক্ত ইতিহাস। সেই ইতিহাসকে স্মরণ করেই “মরিচঝাঁপিঃ ছিন্ন দেশ, ছিন্ন ইতিহাস”। সেদিন যারা প্রতিবাদ করেও সাড়া পাননি, তাদের মিলিত কন্ঠস্বর এই সংকলনে। ইতিহাসের সন্ধানে স্বর, প্রতিস্বর, ধবনি, প্রতিধবনি-সকলকেই গুরুত্ব দিতে হয়। তাই সেদিন যারা মরিচঝাঁপিকে থামাননি তাঁদের বক্তব্যও স্থান পেয়েছে এই সংকলনে। লিখেছেন শৈবাল কুমার গুপ্ত, জ্যোতি বসু, বরুণ সেনগুপ্ত, পান্নালাল দাশগুপ্ত, জ্যোতির্ময় দত্ত, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, সুখরঞ্জন সেনগুপ্ত, দেবপ্রসাদ সরকার, মনোজ ভট্টাচার্য, তুষার ভট্টাচার্য, অমিয়কুমার সামন্ত এবং আরো অনেকে। অনু জালের পূর্বপ্রকাশিত একটি লেখা স্থান পেয়েছে অনূদিত হয়ে। রস মল্লিকের তথ্যবহুল একটি লেখা ঘুরেফিরে মরিচঝাঁপির আলোচনায় উঠে এসেছে। তাই সেই লেখাটিও পরিশিষ্টে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও আছে সংবাদপত্রের পাতা থেকে উঠে আসা মরিচঝাঁপি নিয়ে টুকিটাকি। তিরিশ বছর পর দেশভাগের ইতিহাসের সবচেয়ে অনালোচিত পর্বের পাঠ নিতে যারা ইচ্ছুক, সংকলনটি তাদের জন্য।

Posted in Book reviews, History, Identity, Migration, Refugees and Settlers, camps, colonies and Settlements, partition | Tagged: , , | Leave a Comment »

নীরবতার সংলাপ

Posted by bangalnama on December 31, 2009

চমকে যাওয়ার মতোই তথ্য সব। মরিচঝাঁপি। নৈঃশব্দের অন্তরালে গণহত্যার এক কালো ইতিহাস – লিখেছিলেন জগদীশ মন্ডল। তৎকালীন দক্ষিণবঙ্গের এক সাংসদ শক্তি সরকারের সঙ্গে বারবার গিয়েছিলেন কাদামাটি আর সমুদ্রের নোনা জলের গন্ধ-মেশা হোগলা বনের দ্বীপে। তার পর সব চুপচাপ। বহু বছর কেটে গেল। ২০০৪-এ প্রকাশিত অমিতাভ ঘোষের বই ‘দ্য হাঙরি টাইড’ মরিচঝাঁপি দ্বীপে অল্পকাল-স্থায়ী কিছু ছিন্নমূল মানুষের কথা বৃহত্তর জনসমাজের কাছে নিয়ে এলো। সম্প্রতি দ্বিতীয়বার বইটি পড়বার সময় অনুভব করলাম স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণা মানুষের জান্তব জীবনযন্ত্রণারও অধিক। এমনি একটা সময়ে “মরিচঝাঁপি ছিন্নদেশ, ছিন্ন ইতিহাস” পড়তে পড়তে মনে হল এ-সবই তো জানা ঘটনা, তিন দশক আগে আমাদের প্রজন্মের মানুষ জনকে যা সমূলে নাড়িয়ে দিয়েছিল। আবার নতুন মাত্রায় দেখা দিল মরিচঝাঁপি। বারবার ঘুরে আসে কতগুলো নাম। সঙ্গে আসে আত্মবিস্মৃতির গ্লানি। আমাদের বঙ্গভূমির বুদ্ধিজীবি মানুষ হয়তো এমন করেই বেঁচে আছেন। নিজের কাছে লুকিয়েও হয়তো বা। সুখে সমৃদ্ধিতে ভালই তো আছেন। কী দরকার রাজশক্তির বিরুদ্ধাচরণ করে। শিরদাঁড়া একটু সামনে নুইয়ে দিলেই যখন রাজভোগের কিঞ্চিৎ উচ্ছিষ্ট হাতে এসে যায়।


মরিচঝাঁপির অলস শান্ত দ্বীপে গোলাগুলি চলেছিল আজ থেকে প্রায় তিরিশ বছর পনেরো মাস আগে, নদীপারের কুমিরমারি অঞ্চলে। মরিচঝাঁপি থেকে কিছু খাদ্য আর পানীয় জল সংগ্রহ করতে এসেছিলেন নতুন বসতির উদ্বাস্তুরা। প্রস্তুত ছিল জ্যোতিবাবুর স্বরাষ্ট্রসচিব রথীন সেনগুপ্ত সাহেবের পুলিশবাহিনী। অন্তরালে অখন্ড ২৪ পরগণার পুলিশ সুপার অমিয় সামন্ত। গুলি চলল। বাঁচার স্বপ্ন শেষ হল না। মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন বেশ কিছু মানুষ। কেউ বললেন অনেক। অমিয় সামন্ত বলেন মাত্র দুজন। শরীরে গুলি নিয়েও বেঁচে থাকলেন দু’একজন। হয়তো এখনও তাঁদের সন্ধান পাওয়া যায়। দমদম এলাকায় মরিচঝাঁপি নামের আস্ত একটি কলোনিই গড়ে ওঠে পরবর্তী সময়ে। তবে সেই মরিচঝাঁপি পর্বের যাঁরা বেঁচে আছেন, তাঁরা আর মুখ খুলতে সাহস পান না। এসব তথ্য তুষার ভট্টাচার্যের বহুকষ্টে নির্মিত তথ্যচিত্রের অংশমাত্র। এই সেদিনও মরিচঝাঁপির প্রথম প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা বলত তারা কিছু জানে না। অবশ্যই ভয়ে, অনুমান করা যায়। তুষারবাবুর ছবি দেখে আর ওঁর সঙ্গে ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় বিষাদগ্রস্ত হয়েছিলাম। সেই গভীর বিষণ্ণতা শুধুই ওঁর তথ্যচিত্রের বিষয়বস্তু-উদ্ভূত নয়। এ বিষণ্ণতা সর্বজনীন মানবতার ‘এভরিম্যানস ডেথ ডিমিনিশেস মি’ – প্রত্যেক মানুষের মৃত্যুই আমাকে ক্ষয় করে। ঠিক তখনই হাতে এল এই বই; খসড়া আকারে। এক মানবতাহীন বামপন্থী সরকারের কলঙ্কিত ইতিহাসের খোঁজ। গাঙচিল-এর প্রকাশনা; সম্পাদনা করেছেন মধুময় পাল। প্রকাশের আলোয় ওই কালের এক অসাধারণ দলিল। মরিচঝাঁপি ছিন্ন দেশ, ছিন্ন ইতিহাস

বাকি অংশটি এখানে পডু়ন…

Posted in Caste, East Pakistan, Migration, Refugees and Settlers, camps, colonies and Settlements, partition | Tagged: , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , | 24 Comments »

বাঙালনামা ঃ তৃতীয় সংখ্যা

Posted by bangalnama on October 25, 2009

।। একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি ।।Ye_Hai_Bombay_Meri_Jaan_Cover

কৈফিয়ৎ:
বারোমাসের তেরো পার্বণ এবং আরো কয়েকটি উপরি পালা-পার্বণ সামলে উঠে তৃতীয় সংখ্যা প্রকাশে একটু দেরি হয়ে গ্যালো। তবে এবারের চর্বিত-চর্বণের সম্ভার দেখে পাঠককুলের রসনা তৃপ্ত হবেই – এ নিছক আমাদের আশা-টাশা নয় এক্কেরে প্রত্যাশা।


শুরুটা না হয় করি সেই আদি-অকৃত্রিম প্রশ্ন দিয়েই– বাঙাল কে বা কারা? তারা দু’পেয়ের মতন ঢাকা জিলায় বাণিজ্য-বসত করে, নাকি চাইর পাও লইয়া চট্টগ্রামের (মগ)ডালে ডালে বিচরণ করে? বিংশ শতাব্দীতে যাবতীয় বাঙালির আড্ডায়-আলোচনায়-তর্কে যে শব্দটি এত বেশি বার উঠে এসেছে তার কি আদৌ কোনও ঐতিহাসিক বা সাহিত্যিক ব্যুৎপত্তিগত মানে আছে, না সেটি নিছকই কিছু মানুষের ভৌগোলিক রোম্যান্টিসিজ়ম? এ প্রশ্নের প্রিসাইজ় উত্তর দেওয়ার দাবি আমরা করলাম না, বরং প্রশ্নগুলোকেই ঝালমুড়ির একটু মশলা দিয়ে ঝাঁকিয়ে পরিবেশন করা হলো। এর সঙ্গে রইলো পশ্চিমবঙ্গে এসে নতুন ক’রে ঘর বাঁধা কিছু মানুষের কথা, রইলো ওপার বাংলার মানুষের পার্টিশন-পরবর্তী জীবনধারার উপর লেখা ‘দয়াময়ীর কথা’ নিয়ে কিছু আলোচনা। পার্টিশন-দাঙ্গার ইতিহাস নিয়ে শুরু হলো ধারাবাহিক গল্প ‘যুগসন্ধির চতুরঙ্গ’। প্রবন্ধের অচলায়তন ছেড়ে গল্পের মুক্তমঞ্চে বাঙালনামা’র পা রাখা শুরু হলো এর সঙ্গেই। রাখা হলো একাত্তরের বুদ্ধিজীবী হত্যার বীভৎস দিনগুলির ইতিহাসও। রাখা থাকলো স্বাধীনতার কবি শামসুর রহমানের সঙ্গে একটি অন্যরকম সাক্ষাৎকারের গল্পও।


গত সংখ্যাতে প্রকাশিত ‘পূর্ববাংলার নমঃশূদ্র আন্দোলন’ লেখাটিতে উল্লেখিত মুকুন্দবিহারী মল্লিকের জীবন ও কাজ নিয়ে একটি ব্যক্তিগত আলেখ্য আঁকলেন তাঁর প্র-দৌহিত্র কিঞ্জল। ‘মেরি জান মুঝে জান না কহো’-র ভারতবিখ্যাত গায়িকার কথা রাখা হলো; গীতা দত্তের কালজয়ী গানগুলি মনে আসতে আসতে আরও একবার মনে করে নিন তাঁকে ঘিরে থাকা aura–টিকেও। পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে পড়া বাঙালির বিভিন্ন প্রজন্মের গল্প যিনি লিখে চলেছেন, সেই লেখিকা ঝুম্পা লাহিড়ির সাহিত্যের উপর রইলো একটি লেখা। থাকলো যাবতীয় লেখা নিয়ে আলোচনায় যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণও।


আর, বাঙালদের কাগজ অথচ খাওয়াদাওয়া নিয়া কথা রাখুম না তাই কি হয় মশয়! আমোদিনীর হঁেশেলের ধারাবাহিক কিস্তিতে থাকলো কাঐনের চালের অপূর্ব স্বাদ আর আমাদা দিয়ে সন্দেশের রেসিপি- মধুরেণ সমাপয়েৎ।

সূচীপত্র:

গল্প হলেও সত্যি
খলসেকোটার গল্প – সোমনাথ রায়
স্বপ্নপুরণের কথকতা – বৃষ্টি সইদ

জলসা-ঘর
ইয়ে হ্যায় বম্বে মেরি জান – ইন্দ্রনাথ মুখার্জী

প্রবন্ধ
বাঙাল: শব্দার্থের সন্ধানে - আকাশ ও সোহিনী
আমার ডায়েরির পাতা থেকে – বাসুদেব আচার্য্য


প্রচ্ছদ: অভীক্স
২৫শে অক্টোবর, ২০০৯

প্রবন্ধ
Reclaiming the Margins of Faded Scrolls – Kinjal Dasbiswas
An Interpreter for the Bengali Diaspora – Sourav Chatterjee

বই আলোচনা
দয়াময়ীর কথা – ইন্দ্রাণী দত্ত

ধারাবাহিক
আমোদিনীর হেঁশেল – দেবলীনা সেন
যুগসন্ধির চতুরঙ্গ – নীলাভ্র ব্যানার্জী

Posted in Bangalnama Magazine | 6 Comments »

খলসেকোটার গল্প

Posted by bangalnama on October 25, 2009

এই যেটা লিখছি, সেটা বেসিকালি আত্মজীবনীর অংশ গোছের কিছু, ছোটবেলা কাটানোর রাস্তায় দেখে চলা কিছু জিনিসকে মনে করার চেষ্টা করা আর সেইখান থেকে বাঙাল আইডেন্টিটির কোনও দিশা দ্যাখা যায় কিনা দেখবার চেষ্টা করা। জায়গাটি আমার বাড়ির ঠিক পাশেই, কলিকাতা বিমান বন্দরের অতীব সন্নিকটে বাঙাল অধ্যুষিত একটি পল্লী। পল্লী বলাটাই সমীচীন হলো কারণ সন ১৯৯৬ অবধি এই অঞ্চলগুলি গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন ছিলো, অনেকগুলি ইঁটের রাস্তা আর আদ্ধেক-বুজে আসা পুকুর-ডোবায় সম্পৃক্ত হয়ে। ওপার বাংলায় বরিশালের খলিসাকোটা নামে কোনও বর্ধিষ্ণু গ্রাম ছিলো, ৪৭-এর দেশভাগের আশেপাশের সময় ধরে সেখানকার সম্পন্ন হিন্দুরা গ্রাম তথা দেশ ছাড়তে শুরু করলেন, ছড়িয়ে পড়লেন শহর কলিকাতার চারধারে। আর পাঁচটা উদ্বাস্তু আন্দোলনের মতন করে জমি দখল করে এই খলিসাকোটা কলোনীর জন্ম হয় নি। সেই ছড়িয়ে পড়া মানুষগুলি এ পারে বিভিন্ন আলাদা আলাদা ঠাঁই জুটিয়ে নিয়েছিলেন, তারপর নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন বিভক্ত ভারতবর্ষে। এর পর শুরু হলো হারিয়ে ফেলা পরিচয় খুঁজে পাওয়ার পালা- এক গ্রামের লোকেরা নিজেদের খুঁজে পেতে শুরু করলেন আর তারপর নতুন একটা গ্রাম বানালেন ফেলে আসা গ্রামের নামে, সেইটিই এই খলিসাকোটা কলোনী। বিমানবন্দর আর বিরাটির মাঝখানে মুসলমান চাষীদের কাছ থেকে জমি কেনা হলো। একঘর দু’ঘর করে ওপারের গ্রামের লোকেরা এসে ঘর বানাতে থাকলেন ৬০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে। এঁদের অনেকেই ততদিনে মোটামুটি ভাবে একটা অর্থনৈতিক স্বাচ্ছল্য অর্জন করে ফেলেছেন, তাঁরা বাকি আত্মীয় ও গ্রামবাসীদের ডেকে আনলেন এই জায়গাটিতে। ক্রমশঃ ইস্কুল, খেলার মাঠ, লাইব্রেরী, বারোয়ারি পুকুর নিয়ে ভদ্রস্থ জনপদ গড়ে উঠলো।

বাকি অংশটি এখানে পডু়ন…

Posted in Bangal, Barisal, Calcutta, Childhood, Culture, Identity, Memoirs, Migration, Refugees and Settlers, colonies and Settlements | Tagged: , , , , , , , , , | 1 Comment »

স্বপ্নপুরণের কথকতা

Posted by bangalnama on October 25, 2009

‘স্বাধীনতা তুমি
পিতার কোমল জায়নামাজের উদার জমিন
স্বাধীনতা তুমি
উঠানে ছড়ানো মায়ের শুভ্র শাড়ির কাঁপন
স্বাধীনতা তুমি
বোনের হাতের নম্র পাতায় মেহেদির রং

স্বাধীনতা তুমি
বাগানের ঘর, কোকিলের গান,
বয়েসী বটের ঝিলিমিলি পাতা,
যেমন ইচ্ছে লেখার আমার কবিতার খাতা’
- শামসুর রাহমান

বাকি অংশটি এখানে পডু়ন…

Posted in Memoirs, Personal Recounts, Poetry | Tagged: , , , | Leave a Comment »

ইয়ে হ্যায় বম্বে মেরি জান

Posted by bangalnama on October 25, 2009

গীতা দত্ত । বম্বের জীবন ও সংগীত


প্রথমে অনুরোধ এসেছিল কানু রায়’কে নিয়ে লেখার জন্য। অসাধারণ সুরকার (যদিও খুব বেশি কাজ করেননি) ছিলেন কিন্তু সচরাচর ওনাকে নিয়ে লেখা বা কথা বিশেষ হয় না। হঠাৎ এ অনুরোধ! ভাবতে না ভাবতে প্রশ্ন এল, কানু রায় সম্পর্কে গীতা দত্ত (রায়)-এর ভাই-ই তো? প্রচেষ্টা চলছে পূর্ববাংলার সাংগীতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে বাঙালনামায় কিছু লেখালেখি করার। কিন্তু গোড়াতেই গলদ, কানু রায়ের সঙ্গে গীতা দত্তের সংগীত ছাড়া আর কোনো সম্পর্ক নেই, যদিও আজকের এই তথ্যবিপ্লবের যুগে অনেক জায়গাতেই দেখি লেখা উনি গীতা দত্তের ভাই বা দাদা কিছু একটা ছিলেন। এটা আদপেই ঠিক নয়, কাজেই আপাততঃ কানু রায়কে নিয়ে লেখার সুযোগটা হাতছাড়া হল।


কিন্তু গীতা দত্তকে নিয়ে লেখার সুযোগটাও খুব একটা কম লোভনীয় নয়। ওনাকে নিয়ে যে খুব একটা লেখালেখি হয়েছে তেমনও নয়। সম্প্রতি হৈমন্তী ব্যানার্জীর
‘Geeta Dutt – The Skylark’ ছাড়া আর কোনো পূর্ণাঙ্গ বই আছে কিনা ওনাকে নিয়ে তা আমার জানা নেই। তাই উৎসাহ নিয়ে লিখতে শুরু করলাম এটা জেনেই যে লেখাটা শেষ হতে সময় লাগবে। তাই পাঠক-পাঠিকারা যদি লেখার মধ্যে অসঙ্গতি পান, সে দোষ এই অধমের।

বাকি অংশটি এখানে পডু়ন…

Posted in Cinema, Music | Tagged: , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , | 2 Comments »

বাঙাল : শব্দার্থের সন্ধানে

Posted by bangalnama on October 25, 2009

কিছু কিছু শব্দ থাকে যাকে ব্যবহার তো করি কিন্তু যার অর্থটার সুলুকসন্ধান পাই না। বাঙাল শব্দটা আমার কাছে তেমন একটা শব্দ। ন্যায়শাস্ত্রে বলে শব্দের অর্থদান করেন ঈশ্বর। এই ক্ষেত্রে তিনি আমার প্রতি সদয় ছিলেন না। তবে বাঙাল না হলেও আমি ইস্টবেঙ্গল। আর এই শব্দের অর্থ আমি বিলক্ষণ জানি। কারণ, আমার দিদির সাথে আমার ছিল নিদারুণ চুলোচুলি। আর দিদি ছিল মোহনবাগানি। আর ঠিক সেই কারণেই আমি ছিলাম ইস্টবেঙ্গল। আমার ইস্টবেঙ্গল হওয়ার পেছনে যে রকম অন্য একটি ক্লাবের পরোক্ষ অবদান ছিল, তেমনি আমার মনে হয় বাঙাল শব্দটার অর্থ খুঁজতে গেলে তার প্রতিপক্ষকে খুঁজতে হবে। এই কথার সুতো টেনে আরো কিছু প্রশ্ন-ও তোলা যায়, যেমন ‘বাঙাল’ কি স্বতন্ত্র বর্গ? না কি তা তার কোনো ‘প্রতিপক্ষ’ শব্দের ওপর নির্ভরশীল? যদি তা হয়, তবে শব্দটির অর্থ অচল কিছু? না প্রতিপক্ষের সাথে দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক থাকার জন্য তার অর্থ-ও সময়ের সাথে পালটে গেছে? যারা ক্ষমতার কেন্দ্রে থেকে শব্দের অর্থ নির্মাণ করেন, তারা যে অর্থে শব্দটা ব্যবহার করেছিলেন আর যারা কেন্দ্রে ছিলেন না তারা কি শব্দর অর্থ নিজের মত করেই পালটে নিয়েছিলেন? এই রকম কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর খুঁজবারই চেষ্টা করবো আমাদের আলোচনায়।


‘বাঙাল’ শব্দের উৎস কি? বাঙাল বা বাঙ্গাল শব্দের সম্ভাব্য ভৌগোলিক উৎপত্তি ‘বঙ্গাল’ থেকে। নীহাররঞ্জন রায় প্রণীত ‘বাঙালির ইতিহাস’, আদিপর্ব, থেকে জানতে পাই, একাদশ শতকে প্রাচীন বঙ্গদেশের একটি বিভাগ হিসেবে বঙ্গাল প্রদেশের নাম প্রথম পাওয়া যায় কিছু দক্ষিণী শিলালিপিতে। শিলালিপির বিবরণ বিশ্লেষণ করে বলা যায়, একাদশ শতকে বঙ্গ ও বঙ্গাল দু’টি আলাদা জনপদ ছিল। ‘বঙ্গালদেশ বলিতে প্রায় সমস্ত পূর্ব-বঙ্গ এবং দক্ষিণ-বঙ্গের সমুদ্রতটশায়ী সমস্ত দেশখন্ডকে বুঝাইত। … মানিকচন্দ্র রাজার গানের “ভাটি হইতে আইল বাঙ্গাল লম্বা লম্বা দাড়ি” পদে অনুমান হয়, ভাটি ও বঙ্গাল বা বাঙ্গালদেশ এক সময়ে প্রায় সমার্থকই ছিল। কিন্তু বঙ্গাল বা বাঙ্গালদেশের কেন্দ্রস্থান বোধহয় ছিল পূর্ব-বঙ্গে।’ শ্রীধর দাস সংকলিত সন ১২০৬-এর সদুক্তিকর্ণামৃত গ্রন্থে এক অজ্ঞাতনামা বঙ্গাল কবির একটি গঙ্গাস্তোত্র পাওয়া যায়। সম্ভবতঃ সংস্কৃত সাহিত্যে বঙ্গাল/বাঙ্গাল শব্দটির প্রাচীনতম নিদর্শনের একটি –
“ঘনরসময়ী গভীরা বক্রিম-সুভগোপজীবিত । কবিভিঃ
অবগাঢ়া চ পুনীতে গঙ্গা বঙ্গাল-বাণী চ । –বঙ্গালস্য ।”
ষোলোশ’ খ্রীষ্টাব্দের একটি প্রামাণ্য নকশায় উল্লিখিত
Bengala বন্দরটির অবস্থানও পূর্ববঙ্গে- এটি মতভেদে অধুনা চট্টগ্রাম বা প্রাচীন ঢাকার বন্দর ছিল।

বাকি অংশটি এখানে পডু়ন…

Posted in Bangal, Bengal Renaissance, Culture, Identity, Language, Partition of Bengal, Postcolonialism | Tagged: , , , , , , , | 4 Comments »