বা ঙা ল না মা

Archive for the ‘ইতিহাস’ Category

দেশভাগের সাম্প্রতিক ইতিহাস চর্চার আলোকে ‘দ্যা মার্জিনাল মেন’

Posted by bangalnama on December 22, 2010


– লিখেছেন ত্রিদিব সন্তপা কুণ্ডু

১৯৯৭ সালে যখন দেশভাগ নিয়ে গবেষণা করব মনস্থির করলাম তখন আমার পাঠ্য তালিকায় স্বাভাবিকভাবেই প্রথমে ছিল শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক প্রফুল্ল চক্রবর্তীর বহু আলোচিত/ সমালোচিত বইটি, ‘দ্যা মার্জিনাল মেন’ (The Marginal Men) বস্তুতপক্ষে এটি কোনো ব্যতিক্রমি ঘটনা নয়। কারণ আমাদের প্রজন্মে যারা দেশভাগ নিয়ে কাজ করছেন এবং আগামী দিনে করবেন তাদের কাছে এটি একেবারে প্রাথমিক বই, যাকে বাদ দিয়ে পূর্বভারতে দেশভাগ সংক্রান্ত আলোচনা শুরু করা শক্ত। ১৯৯০ সালে ঐ বইটি প্রকাশিত হবার পর থেকেই তা গবেষকমহলে এবং সাধারণ পাঠকমহলে অত্যন্ত আদৃত। অধ্যাপক চক্রবর্তীর বক্তব্যের সঙ্গে একমত হন বা না হন তাঁকে উপেক্ষা করা শক্ত – ‘দ্যা মার্জিন্যাল মেন’ বইটির সবচেয়ে বড় সাফল্য বোধহয় এটাই। বিগত সহস্রাব্দের শেষ দিক থেকে দেশভাগের ইতিহাস নিয়ে যে ব্যাপক চর্চা পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয় তার অন্যতম পথিকৃত ছিলেন অধ্যাপক প্রফুল্ল চক্রবর্তী। ‘দ্যা মার্জিনাল মেন’ তাঁর দীর্ঘ গবেষণার ফসল। মৃত্যুর কিছুকাল আগে তাঁর সঙ্গে তাঁর কল্যাণীর বাসভবনে বেশ কিছুক্ষণ দেশভাগের ইতিহাসের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনার সৌভাগ্য হয়েছিল। বইটি লিখতে গিয়ে তিনি যে কতটা গভীর ভাবে ঐ বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছিলেন তা অকল্পনীয়। কারণ দেশভাগ, উদ্বাস্তু সমস্যা বা উদ্বাস্তু আন্দোলন নিছকই তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল না, বা কোন intellectual exercise ছিল না, গোটা বিষয়টি তাঁর জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে ছিল।

বাকি অংশটি এখানে পডু়ন…

Advertisements

Posted in ইতিহাস, উদ্বাস্তু ও জবরদখলকারী, কলোনী, ক্যাম্প, দেশভাগ, পরিযাণ, পূর্ব পাকিস্তান, বই আলোচনা, বাম আন্দোলন, রাজনীতি, Reviews | 2 Comments »

Memories and Narratives: Intimate Glimpses of Partition of India

Posted by bangalnama on December 22, 2010


– By Anindita Dasgupta and Neeta Singh*

The independence of India in 1947 gave birth to the new South Asian nation of Pakistan – one country but incongruously situated on two sides of the Indian sub-continent and named East and West Pakistan—comprising territories carved out of Bengal in the east, and Punjab in the west. What Gandhi famously called the vivisection of India had, as a consequence, also led to the re-defining of the subcontinent’s borders, and the creation of the new Indian nation-state as well.


Barely six weeks before India’s independence when the political big-wigs of the Indian National Congress and Muslim League were engaged in conversations and compromises regarding the imminent partition of Punjab and Bengal, in a quiet north-eastern corner of India— Sylhet district in Assam— unknown to most people, Hindus and Muslims were braving the incessant rains and waterlogged fields, and streaming into make-shift poll booths to cast their life-changing votes to decide for themselves if their district would remain with India or join East Pakistan. A little over a month earlier, on 3 June, Lord Louis Mountbatten, the last viceroy of India, had proposed that a referendum be held in order that the people of Sylhet (a Muslim-majority district in Hindu-majority Assam) could decide whether to stay in India or join Pakistan after Independence. However, the Mountbatten Plan for Punjab and Bengal provinces had no such referendum. Instead Boundary Commissions were set up to demarcate the two parts of the Punjab and Bengal based on majority Muslim and non-Muslim areas.

Read the rest of this entry »

Posted in ইতিহাস, দেশভাগ, পূর্ব পাকিস্তান, ফিরে দেখা, রাজনীতি, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, সিলেট, স্মৃতিচারণা | 4 Comments »

সম্পাদকীয়, ১লা জুন, ২০১০

Posted by bangalnama on June 1, 2010


মানুষের বেঁচে থাকার লড়াইয়ের এক জ্যোতির্ময় অধ্যায় তেভাগা আন্দোলন। আজ, অর্ধেক শতাব্দীর বেশি সময় অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ার পর, হয়তো শুধু সোমনাথ হোরের ছবিতে, সলিল চৌধুরীর গানে, আখতারুজ্জামানের উপকথায় আমরা সেই জনজাগরণের স্মৃতি খুঁজে পাই, কিন্তু নির্দ্বিধায় বলা যায় যে এই মুহূর্তেও এ দেশের কৃষিজীবী মানুষের নিজের জমি আর ভূমিজ ফসলের ওপর যে অধিকার রয়েছে তার দৃঢ়তার পিছনে এক ঋজু স্তম্ভ তেভাগা আন্দোলন।

বাকি অংশটি এখানে পডু়ন…

Posted in ইতিহাস, তেভাগা আন্দোলন, বাম আন্দোলন, রাজনীতি | Tagged: , , , , , , , , | Leave a Comment »

‘আ মরি বাংলা ভাষা’ – কেন, মরতে যাবো কেন?

Posted by bangalnama on February 21, 2010


– লিখেছেন দেবী প্রসাদ সিংহ


সেই কবে থেকে শুনে আসছি মাতৃভাষা মাতৃদুগ্ধ। ভাষা ছাড়া একটা জাতি বাঁচতে পারে না, তার রাগ, ঘৃণা, ক্রোধ, ভালোবাসা সবকিছুই জড়িয়ে আছে ভাষার সঙ্গে। শুধু আবেগই নয়, একটা জাতির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও বেড়ে ওঠা ভাষার সাথে ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত হয়ে আছে। ভাষার জন্যে বাংলাদেশের (সাবেক পূর্ব পাকিস্তান) মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। ২১শে ফেব্রুয়ারির সেই দিনটি ডায়াস্পোরিক বাংলায় আড়ম্বর ও গাম্ভীর্যের সঙ্গে এবং অনেক চিন্তাশীল প্রবন্ধ, উদ্দীপক গান ও ওজস্বিনী বক্তৃতার মাধ্যমে পালিত হয়ে থাকে। এরকমই তো হওয়া উচিত। আমাদের মধ্যে বাঙ্গালি যারা উত্তর-পূর্ব ভারতে থাকি, বিশেষ করে অসমে, তাদের জন্যে ১৯শে মে আরো একটি ভাষা শহীদ দিবস আছে। ১৯৬১ সালের সেই দিনটিতে ১১ জন মানুষ বাংলা ভাষার জন্যে পুলিশের গুলিতে মৃত্যুবরণ করেন। শিলচর শহর ও তার আশেপাশে সেদিন পাড়ায় পাড়ায় মাইকে, বছরের অন্যদিনগুলোতে হিন্দি গান বাজলেও, রবীন্দ্রসঙ্গীত ও নজরুলগীতি কানের পর্দা ফাটিয়ে ব্রডকাস্ট হয়ে থাকে, তার সঙ্গে প্রবন্ধ, গান ও বক্তৃতাও সেদিন আমাদের যথেষ্ট মাত্রায় পড়া ও শোনার সুযোগ হয়। এসবই খুব ভালো ব্যাপার, নিজের মাতৃভাষাকে ভালো না বাসলে কী চলে? অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীও তাদের ভাষাকে একই রকম ভালোবাসে, কেবল তাদের অনেকেরই ভাষাশহীদ না থাকার জন্যে প্রবন্ধ, গান ও বক্তৃতা সমান মাত্রায় উৎপাদিত হয় না।


কিন্তু ভাষা যে অনিয়ন্ত্রিত, আবেগতাড়িত প্যাশনের জন্ম দেয়, তার তো একটা হিংস্র, নরখাদক মুখও আছে। আমরা বেশির ভাগ মানুষই যেহেতু নিজস্ব ভাষা-সমাজে বসবাস করি, এই হিংস্র চেহারাটা আমাদের দেখার সুযোগ হয় না। বা, হলেও, যেহেতু সেই বিশেষ ভৌগোলিক অঞ্চলে আমরা যে ভাষায় কথা বলি তার প্রাধান্য প্রশ্নাতীত, বন্দুকের নলের ভুল দিকটায় আমাদের দাঁড়াতে হয় না। সেই স্বস্তির অবস্থান থেকে, এবং যেহেতু ভাষাজড়িত আবেগ আমাদের সবার মধ্যেই কমবেশি সংক্রামিত, তাই বন্দুকের ট্রিগারে আমাদের আঙ্গুল শারীরিকভাবে না থাকলেও সেই হিংসাকে যৌক্তিক ভিত্তি দিয়ে গোষ্ঠীগত বিবেককে শান্ত করে রাখি।

বাকি অংশটি এখানে পডু়ন…

Posted in ইতিহাস, একুশে, ধর্ম, পূর্ব পাকিস্তান, বাংলা, বাংলাদেশ, ভাষা, Language Movement, Religious Fundamentalism | Tagged: , , , , , , , , | 3 Comments »

মরিচঝাঁপি ছিন্ন দেশ, ছিন্ন ইতিহাস ঃ একটি প্রিভিউ

Posted by bangalnama on December 31, 2009


মরিচঝাঁপি
ছিন্ন দেশ, ছিন্ন ইতিহাস


সম্পাদনা ঃ মধুময় পাল
প্রকাশক ঃ গাঙচিল
মূল্য ঃ ২৭৫ টাকা


দোসরা জানুয়ারী ২০১০-এ “মরিচঝাঁপিঃ ছিন্ন দেশ, ছিন্ন ইতিহাস” প্রকাশিত হচ্ছে। দেশভাগের বেদনাদায়ক ইতিহাসের অন্যতম কলঙ্কময় অধ্যায় মরিচঝাঁপি। অন্যতম উপেক্ষিত পর্বও বটে। ১৯৭৮-৭৯ সালে সুন্দরবনের দুর্গম জনহীন দ্বীপ মরিচঝাঁপিতে দন্ডকারণ্য থেকে আসা উদ্বাস্তুদের বসতি গড়ার চেষ্টা এবং সরকারের তরফে বিরোধিতার ঘটনা কেউ মনে রেখেছে, কেউ রাখেনি। বিচ্ছিন্নভাবে কিছু লেখালেখি আর প্রতিবাদ সভা হয়েছে। কিন্ত প্রান্তজনের ডাকে সেইদিন হয়ত সেইভাবে সারা দেয়নি বাংলার নাগরিক সমাজ। ঘটনার পর কেটে গেছে সুদীর্ঘ তিরিশ বছর। রিপ ভ্যান উইঙ্কলের ঘুম নন্দীগ্রাম-সিঙ্গুরের গণহত্যার প্রাক্কালে ভেঙেছে। ঘুরে ফিরে উঠে এসেছে মরিচঝাঁপির রক্তাক্ত ইতিহাস। সেই ইতিহাসকে স্মরণ করেই “মরিচঝাঁপিঃ ছিন্ন দেশ, ছিন্ন ইতিহাস”। সেদিন যারা প্রতিবাদ করেও সাড়া পাননি, তাদের মিলিত কন্ঠস্বর এই সংকলনে। ইতিহাসের সন্ধানে স্বর, প্রতিস্বর, ধবনি, প্রতিধবনি-সকলকেই গুরুত্ব দিতে হয়। তাই সেদিন যারা মরিচঝাঁপিকে থামাননি তাঁদের বক্তব্যও স্থান পেয়েছে এই সংকলনে। লিখেছেন শৈবাল কুমার গুপ্ত, জ্যোতি বসু, বরুণ সেনগুপ্ত, পান্নালাল দাশগুপ্ত, জ্যোতির্ময় দত্ত, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, সুখরঞ্জন সেনগুপ্ত, দেবপ্রসাদ সরকার, মনোজ ভট্টাচার্য, তুষার ভট্টাচার্য, অমিয়কুমার সামন্ত এবং আরো অনেকে। অনু জালের পূর্বপ্রকাশিত একটি লেখা স্থান পেয়েছে অনূদিত হয়ে। রস মল্লিকের তথ্যবহুল একটি লেখা ঘুরেফিরে মরিচঝাঁপির আলোচনায় উঠে এসেছে। তাই সেই লেখাটিও পরিশিষ্টে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও আছে সংবাদপত্রের পাতা থেকে উঠে আসা মরিচঝাঁপি নিয়ে টুকিটাকি। তিরিশ বছর পর দেশভাগের ইতিহাসের সবচেয়ে অনালোচিত পর্বের পাঠ নিতে যারা ইচ্ছুক, সংকলনটি তাদের জন্য।

Posted in ইতিহাস, উদ্বাস্তু ও জবরদখলকারী, কলোনী, ক্যাম্প, দেশভাগ, পরিচয়, পরিযাণ, বই আলোচনা | Tagged: , , | Leave a Comment »

উন্নয়ন, বিভাজন ও জাতি : বাংলায় নমশূদ্র আন্দোলন, ১৮৭২-১৯৪৭

Posted by bangalnama on August 31, 2009



জাতিবিভাগ, শ্রেণী আর ক্ষমতার সম্পর্কের মধ্যে প্রাক-ঔপনিবেশিক বাংলার সনাতন হিন্দু সমাজে যে ভারসাম্য ছিল (রায়, ১৯৮০, পৃঃ ৩২৪-২৫; সান্যাল, ১৯৮১, পৃঃ ১৯-২৬), ইংরেজ ঔপনিবেশিক সরকার নতুন নতুন সুযোগ-সুবিধা তৈরি করতে থাকলে তা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়। সাধারণ ধারণা এই যে ভূমি বিক্রেয় পণ্যে পরিণত হলে, প্রথাবদ্ধ উৎপাদন সম্পর্কের জায়গা নেয় চুক্তিবদ্ধতা। নতুন পেশার সৃষ্টি হল, যার ভিত্তি ব্যক্তিগত যোগ্যতা। যে সব বণিক সম্প্রদায়ের বাণিজ্যকর্ম এতদিন আঞ্চলিকতার সীমায় আটকে ছিল, তারা এবার বিভিন্ন ইউরোপীয় কোম্পানির সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে বাণিজ্য করে অবস্থার উন্নতি ঘটানোর সুযোগ পেল। আর তা বিভিন্ন জাতির মধ্যে প্রাচুর্যের বন্টনকেও বিষমীকৃত করে। এরই পরিণতি, সামাজিক গতিশীলতার বৃদ্ধিতে সমাজে ক্ষমতার সম্পর্ক ভেঙে পড়ার উপক্রম। কিন্তু যদি আদমসুমারির পেশা-সংক্রান্ত তথ্যকে সমাজের কিছু সাধারণ পরিবর্তনের সূচক হিসেবে গ্রহণ করি, যদিও সামাজিক পরিবর্তনের নির্ভরযোগ্য ছবি এর থেকে আদৌ পাওয়া যায় না (কনলন, ১৯৮১), তাহলে আমরা দেখব যে বিংশ শতাব্দীর গোড়াতেও (১৯০১-১৯৩১) এই সামাজিক গতিশীলতা ছিল অত্যন্ত সীমিত, সমাজের একেবারে নিচের তলা থেকে কেউ ওপরে উঠে আসছে এ ঘটনাও দুর্লভ।


জনসংখ্যার এক বিশাল অংশ তখনও তাদের জাতিভিত্তিক পেশাতেই নিয়োজিত, অর্থাৎ ঔপনিবেশিক শাসনপর্বে সীমিতভাবে যে উন্নয়ন প্রক্রিয়ার শুরু তা গোষ্ঠীসাপেক্ষে স্বতন্ত্র প্রভাব বিস্তার করেছে। অন্যভাবে দেখলে অর্থনীতি সমষ্টিগত উন্নয়নের গতি কখনো অর্জন করেনি বলেই একই জাতির মধ্যে তৈরি হয়েছে অন্য শ্রেণীরেখা। অর্থনীতির এই অসম সঞ্চালন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এই ঘটনাটিই একদিকে বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর চেতনাকে নিয়ন্ত্রণ করেছে – অন্যদিকে তা উনিশ শতকের শেষ আর বিশ শতকের আরম্ভে নিম্নবর্ণের জাতিগুলির সামাজিক আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কারণ হয়েই তার ওপর প্রভাব ফেলেছে।

বাকি অংশটি এখানে পডু়ন…

Posted in ইতিহাস, জাত, তেভাগা আন্দোলন, নমশূদ্র আন্দোলন, পরিচয়, রাজনীতি | Tagged: , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , | 7 Comments »

অলিন্দ যুদ্ধ – ঢাকার এক তরুণের গল্প

Posted by bangalnama on August 31, 2009


মাসিক ‘বেণু’ পত্রিকার একটি বিশেষ সংখ্যা নিয়ে বসেছিলেন সুভাষচন্দ্র। যে কেউ দেখলে অবাক হয়ে যেত। বই খোলা অবস্থায় কোলের ওপর রাখা – অবিরাম ধারায় জল ঝরছে তাঁর চোখ দিয়ে। মেজদা শরৎচন্দ্র এসেছিলেন একটা খবর দিতে। ভাইকে দেখে খুব চমকে গেলেন। আলতো করে হাত রাখলেন কাঁধে। নিজেকে সামলে সুভাষচন্দ্র তাকালেন দাদা’র দিকে। তাঁর সপ্রশ্ন দৃষ্টির উত্তরে বললেন, “এবারের ‘বেণু’ পড়েছ? দীনেশের লেখা কয়েকটা চিঠি প্রকাশিত হয়েছে। মাত্র কুড়ি বছর বয়সে এত পরিণত! এ তো চিঠি নয়, জ্বলন্ত জীবন-দর্শন!” কিছুক্ষণ দুজনেই চুপচাপ। পত্রিকার কয়েকটা পাতা উলটে একজায়গায় থামলেন সুভাষ। বললেন, “দীনেশ তার বউদিকে লিখেছে –

‘ভারতবাসী আমরা নাকি বড় ধর্মপ্রবণ। ধর্মের নামে ভক্তিতে আমাদের পণ্ডিতদের টিকি নাকি খাড়া হয়ে ওঠে। তবে আমাদের মরণের এত ভয় কেন? বলি ধর্ম কি আছে আমাদের দেশে? যে দেশে মানুষকে স্পর্শ করিলে মানুষের ধর্ম নষ্ট হয়, সে দেশের ধর্ম আজই গঙ্গার জলে বিসর্জন দেওয়া উচিত। সবার চাইতে বড় ধর্ম মানুষের বিবেক। সেই বিবেককে উপেক্ষা করিয়া আমরা ধর্মের নামে অধর্মের স্রোতে গা ভাসাইয়াছি……এতে কি ভগবান আমাদের জন্য বৈকুণ্ঠের দ্বার খুলিয়া রাখিবেন, না খোদা আমাদের বেহস্তে স্থান দেবেন? যে দেশকে ইহজন্মের মত ছাড়িয়া যাইতেছি, যাহার ধূলিকণাটুকু পর্যন্ত আমার কাছে পবিত্র, আজ বড় কষ্টে তাহার সম্বন্ধে এসব কথা লিখিতে হইল।’

বাকি অংশটি এখানে পডু়ন…

Posted in ইতিহাস, কলকাতা, জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, ঢাকা, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম | Tagged: , , , , , , , , , , , , , , , | 1 Comment »

স্বাধীনতার অন্য মুখ ঃ বাংলা কবিতা ও গানে দেশভাগ

Posted by bangalnama on August 31, 2009


ভারতের জাতীয়তাবাদী ইতিহাসচর্চায় স্বাধীনতা একটি মহান ও পবিত্র বিজয়ফলক হিসাবে স্বীকৃত। জাতীয়তাবাদী আন্দোলন তার কাঙ্ক্ষিত পরিণতি লাভ করে স্বাধীনতা অর্জনের মধ্য দিয়ে। আরও সুস্পষ্ট রূপে বললে একটি জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। সেই স্বাধীনতা অর্জনের জন্য জাতীয়তাবাদী নেতৃবর্গ দেশভাগের সিদ্ধান্ত মেনে নিতেও পিছপা হননি। জাতীয়তাবাদী ইতিহাসের প্রকল্পে দেশভাগ ও তদ্‌জ্জনিত দুর্ভোগ ছিল নেহাৎই একটি মহান লক্ষ্য পূরণের জন্য কিছু মানুষের সামান্য আত্মত্যাগ। স্বাভাবিকভাবেই দেশভাগ বহু বছর ভারতের ইতিহাস চর্চায় উপেক্ষিত থেকে যায়। স্বাধীনতা উদ্‌যাপনের আনন্দোৎসবে ঢাকা পড়ে যায় দেশভাগের ফলে উৎখাত হওয়া মানুষের স্বজন ও স্বদেশ হারানোর হাহাকার। বিগত সহস্রাব্দের শেষ দশক থেকে দেশভাগের অভিজ্ঞতা নিয়ে এক নতুন ধরনের ইতিহাসচর্চা শুরু হয় মূলতঃ উত্তরভারতে, বিশেষ করে পাঞ্জাবে। এর রেশ এসে পড়ে পশ্চিমবঙ্গেও। সম্প্রতিকালে পশ্চিমবঙ্গে দেশভাগ নিয়ে ব্যাপক গবেষণা ও আলোচনা হচ্ছে। এর অনেকটাই স্মৃতিনির্ভর। এই ধরণের ইতিহাসচর্চার মধ্য দিয়ে স্মৃতি, সাহিত্য ও ইতিহাসের লক্ষ্মণরেখা ক্রমশঃ লুপ্ত হয়ে যাচ্ছে, যা বিশেষভাবে লক্ষ্যনীয়। ইতিহাসের এই পদ্ধতিগত অভিযোজন নিয়ে যে বিতর্ক আছে তার মধ্যে না গিয়ে এই প্রবন্ধে তুলে ধরার চেষ্টা করব স্বাধীনতা ও দেশভাগের সমসায়িক বাংলার সৃষ্টিশীল মানুষরা কি ভাবে দেশভাগকে দেখেছিলেন। বাংলা কবিতা ও গানে তার প্রতিফলন কেমন হয়েছিল।

বাকি অংশটি এখানে পডু়ন…

Posted in ইতিহাস, উদ্বাস্তু ও জবরদখলকারী, কলকাতা, কলোনী, ক্যাম্প, জাতি, জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, পরিচয়, পরিযাণ, পূর্ব পাকিস্তান, বঙ্গভঙ্গ, বাংলাদেশ, রাজনীতি | Tagged: , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , | Leave a Comment »

নিষিদ্ধ নামের সন্ধানে – একটি আপৎকালীন পরিশিষ্ট

Posted by bangalnama on August 31, 2009


(দ্বিতীয় কিস্তির পর)

সলতে পাকানো: জনৈক সাংবাদিক একবার গোদার-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “মিঃ গোদার, আপনার কি মনে হয় না যে একটা ফিল্মের মাথা, তার পর ধড় এবং সব শেষে একটা ল্যাজ থাকা উচিত?”

অস্তিত্ববাদী দৃষ্টিভঙ্গী থেকে ডাইভ মেরে মাওবাদী দর্শনে পৌঁছনো চিত্রনির্মাতা জবাব দিয়েছিলেন, “নিশ্চয়ই, তবে আপনি যে ভাবে পর পর বললেন, ব্যাপারটা সেই ভাবে নাও ঘটতে পারে।”

কৈফিয়ৎ এবং আরো কিছু: সম্পাদকমন্ডলীর কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ ছিলাম যে কমরেড সরোজ দত্তর জীবনের বিবিধ ডাইমেনশনগুলো একে একে লিখে হাজির করব পাঠক কুলের কাছে। ছকটাও সাজিয়েছিলাম সেই ভাবে; কিন্তু বিপদের একশেষ! আমার ‘অপার্থিব’ ল্যাদ এবং ভ্রমণ-প্রীতি (খানিকটা বাধ্যতামূলক ভাবেই) সেই চিন্তায় জল ঢেলে দিল। অগত্যা সম্পাদিকাদ্বয়ের কাছে ‘পার্থিব’ ঝাড়! যাইহোক, মাথা নামক আকরিক-এ জমে থাকা জং ছাড়াতে বাধ্য হলাম বাঙালনামার ‘অগস্ট’ সংখ্যার কথা ভেবে। অগস্ট; সেই মাস যার ৪-৫ তারিখে গিন্নির ডোবারম্যানের বাহিনী শ্রমিক-কৃষকের আন্দোলনকে জলাতঙ্কগ্রস্ত করে তোলার জন্যে নির্মম ভাবে হত্যা করেছিল ‘মূর্তি ভাঙার কারিগর’কে।

বাকি অংশটি এখানে পডু়ন…

Posted in ইতিহাস, কলকাতা, নকশালবাড়ি আন্দোলন, বাম আন্দোলন, রাজনীতি, সত্তরের কলকাতা | Tagged: , , , , , , , , | 1 Comment »

পূর্ববাংলায় নকশাল আন্দোলনের প্রভাব

Posted by bangalnama on August 31, 2009


পূর্ববাংলার নকশালপন্থী আন্দোলনের এক নেতা এবং বাংলাদেশ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী)-র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও যশোহর জেলা কমিটির সম্পাদক আমজাদ হোসেন এর লেখা এই প্রতিবেদনটি ১৯৮৯ সালে প্রকাশিত হয় ‘নকশালবাড়ি আন্দোলনের প্রামাণ্য তথ্য সংকলন’-পত্রিকায়। ১৯৬৭ সালের মে মাসে উত্তরবঙ্গের নকশালবাড়িতে যে কৃষক অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়, তার প্রভাব পূর্ববঙ্গের বিভিন্ন রাজনৈতিক পার্টি, সংগঠন ও দলগুলির উপর কেমনভাবে পড়েছিল, এই প্রবন্ধ তারই দলিল। (সৌজন্যে: বাসু আচার্য্য)

বাকি অংশটি এখানে পডু়ন…

Posted in আর্কাইভ, ইতিহাস, নকশালবাড়ি আন্দোলন, বাম আন্দোলন, রাজনীতি | Tagged: , , , , , , , , , | Leave a Comment »

An Attempt at a Critical Overview of Amitav Ghosh’s Body of Work

Posted by bangalnama on March 11, 2009


Amitav Ghosh is my kind of writer. He doesn’t have the masterful genius of a Rushdie or a Naipaul nor perhaps the eccentric erudition of a Seth, nor the poignancy of Lahiri in detailing little everyday experiences. He writes with an anthropologist’s precision, taking care to situate his characters and themes in a well-defined historical context. He loves to dwell in those little-explored spaces where cultures intersect and identities emerge, classes collide and languages melt into each other, and equipped with his gift for lucid prose and power to relate in a way that is at once modest and deep, comes away as being extremely convincing for his pains. What’s more he has written consistently over twenty years and seems to improve with almost every book, and manages to remain fashionable in academia, and attractive to the lay reader, at the same time. These are no mean achievements in today’s bustling world of Indo-Anglian writing.


When you read the likes of Orwell there are moments when you jump up and say “Yess! that’s exactly what I feel too”. With a clever little narrative device, the author has articulated a little piece of your Weltanschaung, perhaps better than you yourself could have ever put it . Such literary resonances oftentimes happen with Ghosh too, not least the “compass on an atlas” episode from “The Shadow Lines” where the narrator picks up an old atlas and with a compass centered on Khulna draws out an arc through Srinagar. It flashes upon him that Chengdu and Chiang Mai, places one would have barely heard of, are closer to Calcutta than Kashmir is, and yet happenings in the Hazratbal shrine in that faraway valley could set off riots in Bangladesh, to be symmetrically reflected in Calcutta. This “yess” moment in one broad sweep ( like the compass’s swinging arc), ponders on the ironies of borders, on the meaning of identity, on the problematics of nation-states and expresses an aspiration towards a certain universal humanism. Read the rest of this entry »

Posted in ইতিহাস, উত্তর-ঔপনিবেশিকতা, ঔপন্যাসিক, বেঙ্গল রেনেসাঁ, সাহিত্য, writers of South-Asian origin | Tagged: , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , | 12 Comments »

কুট্টি

Posted by bangalnama on January 21, 2009


“কুট্টি রেসে গিয়ে বেট্‌ করেছে এক অতি নিকৃষ্ট ঘোড়া। এসেছে সর্বশেষে। তার এক বন্ধু — আরেক কুট্টি — ঠাট্টা করে বললে, ‘কি ঘোড়া (উচ্চারণ অবশ্য ‘গোরা’ — আমি বোঝবার সুবিধের জন্য সেগুলো বাদ দিয়েই লিখেছি) লাগাইলায় মিয়া!  আইলো সক্কলের পিছনে?’

কুট্টি দমবার পাত্র নয়। বললে, ‘কন্‌ কি কত্তা! দ্যাখলেন না, যেন বাঘের বাচ্চা — বেবাকগুলিরে খ্যাদাইয়া লইয়া গেল!’

কুট্টি সম্প্রদায়ের সঙ্গে পুব-পশ্চিম উভয় বাঙলার রসিকমন্ডলীই একদা পরিচিত ছিলেন। নবীনদের জানাই, এরা ঢাকা শহরের খানদানী গাড়োয়ান-গোষ্ঠী। মোগল সৈন্যবাহিনীর শেষ ঘোড়সওয়ার বা ক্যাভালরি। রিক্‌শার অভিসম্পাতে এরা অধুনা লুপ্তপ্রায়। বহুদেশ ভ্রমণ করার পর আমি নির্ভয়ে বলতে পারি, অশিক্ষিত জনের ভিতর এদের মত witty (হাজির-জবাব এবং সুরসিক বাক্‌-চতুর) নাগরিক আমি দিল্লী-হিল্লী কলোন-বুলোন কোথাও দেখিনি।

এই নিন একটি ছোট ঘটনা। প্রথম পশ্চিম বাঙলার ‘সংস্করণ’টি দিচ্ছি। এক পয়সার তেল কিনে এনে বুড়ি দেখে তাতে একটা মরা মাছি। দোকানীকে গিয়ে অনুযোগ জানাতে সে বললে, ‘এক পয়সার তেলে কি তুমি মরা হাতি আশা করেছিলে!’ এর রাশান সংস্করণটি আরো একটু কাঁচা। এক কপেকের (মাত্র এক পয়সা) রুটি কিনে ছিঁড়ে দেখে তাতে এক টুকরো ন্যাকড়া। দোকানীকে অনুযোগ করাতে সে বললে, ‘এক কপেকের রুটির ভিতর কি তুমি আস্ত একখানা হীরের টুকরো আশা করেছিলে?’ এর ইংরিজি ‘সংস্করণে’ আছে, এক ইংরেজ রমণী এক শিলিঙে এক জোড়া মোজা কিনে এনে বাড়িতে দেখেন তাতে একটি ল্যাডার নেই (অর্থাৎ মই — মোজার একটি টানা সূতো ছিঁড়ে গেলে পড়েনের সূতো একটার পর একটা যেন মইয়ের এক একটা ধাপ-কাঠির মত দেখায় বলে ওর নাম ল্যাডার)। দোকানীকে অনুযোগ জানাতে সে বললে, ‘এক শিলিঙের মোজাতে কি আপনি, ম্যাডাম, একখানা রাজকীয় মার্বেল স্টেয়ারকেস্‌ আশা করেছিলেন!’

এবারে সর্বশেষে শুনুন কুট্টি সংস্করণ। সে একখানা ঝুরঝুরে বাড়ি ভাড়া দিয়েছে পুলিশের এস.ই. -কে। বর্ষাকালে কুট্টিকে ডেকে নিয়ে তিনি দেখাচ্ছেন, এখানে জল ঝড়ছে, ওখানে জল পড়ছে, — জল জল সর্বত্র জল পড়ছে। পুলিশের লোক বলে কুট্টি সাহস করে কোনো মন্তব্য বা টিপ্পনি কাটতে পারছে না — যদিও প্রতি মুহূর্তেই মাথায় খেলছে বিস্তর। শেষটায় না থাকতে পেরে বেরবার সময় বললে, ‘ভাড়াতো দ্যান্‌ কুল্লে পাঁচটি টাকা। পানি পড়বে না, তো কি শরবৎ পড়বে?’

কুট্টি সম্বন্ধে আমি দীর্ঘতর আলোচনা অন্যত্র করেছি — পাঠক সেটি পড়ে দেখতে পারেন। আমার শোক-পরিতাপের অন্ত নেই যে, এ সম্প্রদায় প্রায় নিশ্চিহ্ন হতে চললো। আমি জানি এদের উইট্‌, এদের রিপার্টি লেখাতে ও ছাপাতে সঠিক প্রকাশ করা যায় না; কিন্তু তৎসত্ত্বেও এ-সম্প্রদায় সম্পূর্ণ লোপ পাওয়ার পূর্বে পুব বাঙলার কোনো দরদীজন যদি এদের গল্পগুলির একটি সংগ্রহ প্রকাশ করেন, তবে তিনি উভয় বাঙলার রসিকমন্ডলীর ধন্যবাদার্হ হবেন।”

খোশগল্প, সৈয়দ মুজতবা আলী

[প্রতিলিখন -দেবর্ষি]

Posted in ইতিহাস, ঢাকা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি, সাহিত্য, হাস্যরস | Tagged: , , , , , | Leave a Comment »

 
%d bloggers like this: