বা ঙা ল না মা

Archive for the ‘বাঙাল’ Category

নবগঙ্গা থেকে আদিগঙ্গা, ভুঁইফোঁড়দের সুলুক-সন্ধান ঃ পর্ব দুই

Posted by bangalnama on December 22, 2010


– লিখেছেন রবি-দা

(প্রথম পর্বের পর)

উদ্বাস্তু স্রোতের ভেসে আসা মিছিলে সমাজের সব শ্রেণীর মানুষজন ছিলেন – শ্রমজীবী থেকে বুদ্ধিজীবী, চাষী, কামার, কুমোর, ধোপা, নাপিত, পুরোহিত, শিক্ষক, অধ্যাপক, উকিল, ডাক্তার, মোক্তার – সবাই। জীবিকার সন্ধানে তাই প্রথমে যে যার রাস্থায় হাঁটার চেষ্টা করলেন, কিন্তু কেউ কেউ ছোটখাটো ঠিকানায় পৌঁছে গেলেও সকলের মনস্কামনা পূরণ হবার ছিল না। শ্রমজীবীদের অধিকাংশও ধীরে ধীরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়লেন আরো বিস্তৃত পরিসরে, একে অপরকে খোঁজ দিতে লাগলেন কাজের। পূর্ববঙ্গের সীমানা পেরিয়ে কলকাতা পর্যন্ত অঞ্চলের রূপরেখা পাল্টাতে লাগল হঠাৎ করে। খেদিয়ে দেওয়া ওই বাঙালদের মধ্যে যেভাবেই হোক কিছু একটা করবার দুর্নিবার ইচ্ছা মাথা চাড়া দিয়ে উঠল, তাদের কাছে কোনো বাধাই আর বাধা থাকল না, থাকল না লজ্জা-সঙ্কোচের বালাই। মাস্টারের ছেলে বাড়ি বাড়ি পেন্সিল বিক্রি করতে বেরোলেন, কেই বা চেনে তাঁকে ওই বিশাল জন-অরণ্যে, তাই না? গামছা, ধূপকাঠি, অ্যালুমিন্যিয়ামের বাসনপত্র, এইসব নিয়ে সরাসরি খদ্দেরের কাছে পৌঁছে যাবার এই পুরানো প্রচেষ্টা নতুন করে জোরদার হয়ে উঠল বাঁচার তাগিদে। “মনে রেখো, তোমার বাপ-ঠাকুর্দারা করেনি এসব!” – এককালের এই বহু-উচ্চারিত সতর্কবাণী কালের গভীরে চাপা পড়ে গেল, প্রচলিত সব ধ্যান-ধারণাকে তাচ্ছিল্য করে বাঙাল পৌঁছে গেল নদীয়া, মূর্শিদাবাদ, চব্বিশ পরগনার গ্রামে-গঞ্জে। চাষবাসের কাজে জোয়ার এল, জমির চেহারা পাল্টাতে লাগল, পতিত জমি, দাঙ্গা জমি, খাল-বিল সবকিছু সবুজ হতে লাগল – কোনো অদৃশ্য জাদুবলে নয়, প্রচণ্ড জেদী এবং বাঁচতে চাওয়া মানুষদের মেহনতী ঘামে। মানকচু, চালতা, নলতে শাক, কচুর লতি, কচুর শাক, শালুক ফুল/ডাঁটা(যাকে কলকাতার ঘটিরা তখন ‘কয়েল’ বলে ঠাট্টা করতেন) – এসব বাজারে এল পণ্য হয়ে, হাসাহাসি শুরু হয়ে গেল ফুটপাথের তরকারি বাজারে। কিন্তু চাহিদা ও যোগান দুটোই বেড়ে গেল ওইসব হাস্যকর শাক-সব্জির, কারণ এখানে মাঠে-ঘাটে-গাছে তারা বেওয়ারিশ হয়ে পড়ে থাকত অবহেলায়, তাদের কোনো মালিকানা ছিল না – তাই বেশ সস্তায় বিক্রি হত বলে ভুখা বাঙাল খরিদ্দারও খুব খুশি মনে ঘরে আনতে লাগলেন তাদের। এই কৃষিকাজে লিপ্ত মানুষদের আলাদা করে বসতি গড়ে উঠতে লাগল গ্রামের পরিচিত সীমানার বাইরে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত খাসজমিতে। ঢাকা ও টাঙ্গাইলের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের তন্তুবায় গোষ্ঠীর লোকজন চলে গেলেন শান্তিপুর, ফুলিয়া-সহ নদীয়া ও মূর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের আনাচে-কানাচে। জলবায়ু ও পরিবেশগত কারণে সেখানে আগে থেকেই ওই সম্প্রদায়ের মানুষজন সুনামের সাথে কাজ করতেন, পূর্ববঙ্গের বস্ত্রশিল্পীদের সাথে সেই অঞ্চলের শিল্পীদের নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগও ছিল। প্রথম প্রথম ছিন্নমূল, কপর্দকহীন তাঁতশিল্পীরা মহাজনের কাছ থেকে বানী নিয়ে শাড়ি বুনতেন, পরে অনেকেই তাঁত বসিয়ে মাকু চালিয়ে বাড়িতে অন্যান্য জরুরি প্রাত্যহিকী বহাল রেখেও সবাই মিলে কাপড় বুনতে লাগলেন। বস্ত্রবাজারে, বিশেষ করে শাড়ির জগতে বাজিমাত করে দিল তাঁতের শাড়ি – ঢাকাই জামদানি, বালুচরী, নকশা পাড়, হাজার বুটি, বনেদীয়ানার শীর্ষে চলে এল ওপারের শিল্পীদের নিরন্তর সাধনা ও কারিগরী নৈপুণ্যে। লাল চওড়া পাড় সাদা খোলের শাড়ি বঙ্গনারীদের আধুনিকতার প্রতীক হয়ে উঠল, আটপৌরে মোটা সুতোর শাড়ির চাহিদাও ছিল আকাশচুম্বী, একটু খাটো হত সেসব শাড়ি কিন্তু দাম ছিল কম ও টেকসই ছিল খুব। একইসাথে শান্তিপুর ও কলকাতার মানিকতলায় হাট বসত ওইসব শাড়ির, হারানো মাটি খুঁজে পাওয়ার স্বাদ পেল ধীরে ধীরে বহু শ্রমজীবী উদ্বাস্তু সম্প্রদায়। তবে হইহই করে সাড়া ফেলে দিয়ে কলকাতার ফুটপাথে ক্রেতা-বিক্রেতার মিলন ঘটাল আরেকদল সর্বহারা। আগেই বলেছি, লাজলজ্জা-দ্বিধা-সঙ্কোচ সবকিছু খড়কুটোর মত ভেসে গেছিল তাদের বেঁচে থাকার লড়াইয়ের ধাবমান স্রোতে। ঘরে বসে পরিবারের সবাই মিলে বাজারের চাহিদামত বানাতে লাগলেন ডালের বড়ি, ঘি, ধূপকাঠি, খবরের কাগজের ঠোঙা, কুলের আচার, আরো কত কি! এলাকা এলাকার ফুটপাথের বাজারে সেসব সামগ্রী নিয়ে পৌঁছে যেত বাপ-ব্যাটা, সবাই মিলে। খদ্দের স্থায়ী হতে শুরু হলেই জিনিসের গুণগত মান নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতার ইন্টার‌্যাকশন জমে উঠল, বিক্রেতা উৎসাহী হয়ে ক্রেতার চাহিদা ও পরামর্শকে বাস্তবায়িত করতে সচেষ্ট হলেন। কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই অল্প পুঁজির খুদ্র আকারের কুটিরশিল্পের এক নতুন দিগন্তের সূচনা হল। পাঠক অবাক হবেন জেনে যে পরবর্তীকালে এদের তৈরি বেশ কিছু সামগ্রী ব্র্যান্ডেড হয়ে কলকাতার বাজার দখল করেছে শুধু গুণগত মানের সুনামের নিরিখে। অপরদিকে, দূর-দুরান্তে যাদের পুঁজিপাটা একেবারেই কিছু ছিল না, তারাও হাল না ছেড়ে খেজুরের রস, তালের শাঁস, মাঠেঘাটে ছড়িয়ে থাকা সুষনি শাক, হিঞ্চে শাক, ফুল-বেলপাতা, কলাপাতা, কচুপাতা, শামুক, গুগলি – এসব বয়ে এনে বসে গেলেন বাজারে। শুধু বিক্রেতার ভূমিকাতেই নয়, আবার ক্রেতা হয়ে বাজার দখলে নামলেন আরেকদল পরিশ্রমী বাঙালের দল। বড়সড় চট অথবা লাল শালুর বস্তায় দাঁড়িপাল্লা, বাটখারা বয়ে নিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে ক্রয়-অভিযান চালালেন পুরনো খবরের কাগজ, বইখাতা, শিশি-বোতল, টিন-লোহা-অ্যালুমিনিয়াম, শাড়ি-জামাকাপড়, মায়ে প্লাস্টিকের চিরুনি কৌটো পর্যন্ত নিয়ে। PL ক্যাম্পে ভীড় কমতে লাগল, রাজ্যের অর্থনীতিতে রিফিউজিদের এই অগ্রগতি দেখে তখনকার কিছু মানুষ মনে হয় শঙ্কিত হয়ে উঠলেন। এটা স্বাভাবিক ছিল, কারণ তাঁদেরও সন্তান-সন্ততির ভবিষ্যতের চিন্তা ছিল; স্বাভাবিকভাবেই আওয়াজ উঠল “হকার উচ্ছেদ”-এর। রাজনৈতিক বা যে কোনো কারণেই হোক, কম্যুনিস্টরা খেটে খাওয়া মানুষদের সমর্থনে এগিয়ে এলেন, কংগ্রেসও অসহায় হয়ে চুপ করে রইল রাজনৈতিক জমি হারিয়ে যাবার ভয়ে।

বাকি অংশটি এখানে পডু়ন…

Advertisements

Posted in উদ্বাস্তু ও জবরদখলকারী, কলকাতা, কলোনী, ক্যাম্প, ছোটবেলা, দেশভাগ, পূর্ব পাকিস্তান, ফিরে দেখা, বাঙাল, স্মৃতিচারণা | 7 Comments »

বাঙালবৃত্তান্ত – পর্ব চার

Posted by bangalnama on December 22, 2010


– লিখেছেন রঞ্জন রায়

(তৃতীয় পর্বের পর)


আগেই একবার বলেছিলাম — ময়মনসিংহের নাম-মাহাত্ম্য অপার। বাপ-মায়ের দেয়া নাম চুলোয় গেল। গোটা গাঁয়ের লোক তার নামকরণ করবে কোন অদৃশ্য নিয়মে। সারা গাঁ তাকে সেই নামে ডাকবে, আর সেই ব্যক্তিটিও বিনা কোন হেলদোল সাড়া দেবে। কারো নাম মেঘার মা, কারো ঠান্ডার মা, কারো নাম বাচার মা। কেউ বা মিছার বাপ।


কিন্তু জানবেন যে তাদের কারোরই ছেলেমেয়েদের নাম মেঘা, ঠান্ডা, বাচা বা মিছা নয়। অর্থাৎ তাদের সন্তানের নাম যা খুশি হতে পারে কিন্তু গাঁয়ের লোকের বাপ-মাকে দেয়া নিকনেম-এর সঙ্গে তার উৎস খোঁজা বৃথা! ‘না বিইয়েই কানাইয়ের মা’ এই প্রবাদ কি আসলে ময়মনসিংহ থেকেই শুরু হয়েছিল?

বাকি অংশটি এখানে পডু়ন…

Posted in পূর্ব পাকিস্তান, ফিরে দেখা, বাঙাল, ময়মনসিংহ, স্মৃতিচারণা | 1 Comment »

চান্দ্রদ্বীপি শোলোক শাস্তর পল্্কি কথা

Posted by bangalnama on December 22, 2010


– লিখেছেন মিহির সেনগুপ্ত

চন্দ্রদ্বৈপায়ন মনুষ্যেরা রোমন্থন বা জাবরকাটায় যে জবরদস্ত এলোমেলোবাগীশ এ-কথা রাঢ়ে বঙ্গে সবাই জানেন। বরিশাল নামক ভূভাগটিকে এই রচনায় চন্দ্রদ্বীপ বলে এবং তৎস্থানীয় ভূমিপুত্রদের চন্দ্রদ্বৈপায়ন অভিধায় ভূষিত করলে, আশা করি কেউ আপত্তি করবেন না। নামে কী আসে যায়?


দেশভাগ, দাঙ্গা, ভিটেমাটি থেকে উৎখাত হওন ইত্যাদি অজস্র কারণে জাবরকাটা স্বভাবটি এই উজানি দেশের মানুষদের যেন ষোলোআনা থেকে আঠারো আনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। যাঁরা সেই স্থান ত্যাগ করে এপারে এসেছেন তাঁরাও যেমন, আবার যাঁরা সেই স্থানে ছিটেফোঁটা এখনো আছেন তাঁরাও, সমান দড়। তা বলে কেউ ভাববেন না যেন, আমি শুধু ছিন্ন-শেকড় সংখ্যালঘুদের স্বভাবের কথাই এখানে বলছি। এ-স্বভাব সেখানকার সংখ্যাগুরুদের ক্ষেত্রেও ষোলো থেকে আঠারো আনা রয়েছে।


স্বভাবটি নিতান্ত গো-স্বভাব বটে, কিন্তু তাতে বিলক্ষণ আত্মমগ্নতা। ফলত, এই সব ছিন্ন-শিকড় দ্বৈপায়নেরা যখন কোথাও ‘দলামোচা’ হন, তখন ‘সকায় নিরুত্তিয়া’য় তাঁদের মুখে যে খই ফোটে, তার তুল্য রসবর্ষা এ পোড়া পরবাসে বড় সহজলভ্য নয়। তখন কখনও ‘নাইরকোল সুবারির’ বাগান-বিষয়ক, কখনও নদী, হাওড়, বাওড়, ‘বৃহৎ পুষ্করিণী’, খাল, বিলের অতিকায় স্বাদু মৎস্যাদির এবং এককথায় অতি সমৃদ্ধ এককালের গেরস্থালির পরণ-কথা, কখনও-বা সেই স্বর্গ থেকে উৎখাত হওয়ার বীভৎস এবং করুণ স্মৃতি রোমন্থনে উদ্বেল হয়ে ওঠা। সেই ক্ষণে, এপারে লব্ধ শীলিত ভাষা বেমালুম বিস্মৃত হয়ে খাঁটি চান্দ্রদ্বীপি সকায় নিরুত্তিয়ায় মুখর হলে প্রতিবেশী ‘ঘটি’ পুঙ্গবদের হৃদয়হীন ‘ডিম্বকরণে’র পাত্র হয়ে থাকেন এঁরা। দেশভাগের পর থেকে এ কেত্তন অদ্যাবধি অব্যাহত। চন্দ্রদ্বৈপায়নী বা চান্দ্রদ্বীপি নিরুত্তিয়াটি একটু অতিপ্রাকৃত স্বভাববিশিষ্ট এবং ঘটি শ্রোতাদের ক্ষেত্রে পায়ুপ্রদাহী সন্দেহ নেই, কিন্তু সে-ফৈজত তো ঐতরেয় ব্রাহ্মণের যুগ থেকেই চলে আসছে দেবভাষাভাষিদের সঙ্গে প্রাচীন প্রাকৃতভাষীদের, তৎকালে সে-কারণেই না তামাম বঙ্গীয়কুল ‘ভাষাহীন পক্ষী’ বলে দেবভাষীদের দ্বারা আখ্যায়িত হয়েছিলেন। যথা- ইমাঃ প্রজস্তিস্ত্র অত্যায় মায়ং স্তানি মানি বয়াংসি বঙ্গ– বগধাশ্চেরঃ পাদ্যান্যনা অকর্মভিতো বিবিশ্র ইতি। এই মানসিকতাটিরই সর্বশেষ প্রকাশ ঘটেছে ঘটি-বাঙাল সংলাপজনিত কাজিয়ায়।


যদিও এ আলেখ্য বঙাল বঙ্গীয় ভাষা বা শব্দ বিষয়ক নয়, তথাপি প্রসঙ্গটি এ কারণে তোলা হল যে, রোমন্থনের যে-বিষয় নিয়া বাকতাল্লা মারতে যাচ্ছি, তা একান্তভাবে অথবা প্রধানত চান্দ্রদ্বীপি শব্দজ বচন-বাচনে অাকীর্ণ।

বাকি অংশটি এখানে পডু়ন…

Posted in জাত, বরিশাল, বাংলা, বাঙাল, ভাষা, রম্যরচনা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি | Leave a Comment »

একটি কাল্পনিক কথোপকথন : ময়মনসিংহের উপভাষায়

Posted by bangalnama on December 22, 2010


– লিখেছেন রঞ্জন রায়

(সকালবেলা, একটু সংযুক্ত পরিবারের ঘর)


ঠাকুরমা: উঠরে ভাইয়েরা, দাদুরা! উইঠ্যা পড়। রইদ উঠছে, মেলা বেলা হইছে। অ ধন! উইঠ্যা পড়, হাত-মুখ ধইয়া পড়তে বও। “সকালে শয়ন করি, সকালে উঠিবে, সুস্থ সুখী ধনী-জ্ঞানী তবে তো হইবে।”


নাতি-১: ঠাম্মা, সাত-সক্কালে খামাখা প্যাচাল পাইড়ো না।


ঠাকুরমা: কি কইলি? আমি প্যাচাল পাড়ি? হাচই?‍


নাতি-১: হ’, কইলাম। হাচা কথা।


ঠাকুরমা: আরে “রাত্তিখানি উনিপুক, তার নাই নাকমুখ”! হে আইছে আমারে শিখাইতে? আরে আউয়াখানা, আরে প্যাট ব্যাক্কল! আমার তিনকাল গিয়া এককালে ঠেকছে আর এখন তরার কাছ থেইক্যা শিখন লাগবো?


হাইগ্যা হচতে শিকছস্্ নি? এখনও সর্দি হইলে নাক দিয়া তর পাকনা লডা বাইরয়, ঠিকমত সান করস্্ না। তুই আর রাও করিস না! এমুন হারগাজা!

বাকি অংশটি এখানে পডু়ন…

Posted in বাঙাল, ভাষা, ময়মনসিংহ, রম্যরচনা | 3 Comments »

প্রসঙ্গ সিলেটি ভাষা

Posted by bangalnama on September 13, 2010


– লিখেছেন সঞ্জীব দেবলস্কর

(১)


লোকে বলে সিলেটি ‘ভাষা’। আসলে এটা ‘উপভাষা’। ইংরেজিতে যাকে বলে ডায়লেক্ট। একটি মূল ভাষার অন্যতম উপাদানই হ’ল এর উপভাষা, যাকে আঞ্চলিক ভাষাও বলা চলে। অনেকগুলো অঞ্চলের সমষ্টি যেমন একটি প্র-দেশ, কিম্বা দেশ, তেমনি অনেকগুলো আঞ্চলিক ভাষা বা উপভাষার সমষ্টিই হ’ল একটি মূল ভাষা, যাকে ভাষাবিজ্ঞানীরা বলছেন মান্য চলিত ভাষা। মূল ভাষার সঙ্গে এ উপভাষার সম্পর্ক রাজা আর প্রজার সম্পর্ক নয়, সিলেটিতে বললে, জমিদার-রাইয়তের সম্পর্ক নয়, যদিও জমিদারি ব্যবস্থার মতো এখানেও রয়েছে খাজনা আদান প্রদানের প্রথা। রাইয়ত, অর্থাৎ প্রজা যেমন নিয়মিত খাজনা, সেটা নগদ পয়সাতেই হোক বা উৎপাদিত শস্যের বখরা, কিম্বা বেগার শ্রমদানের মাধ্যমেই হোক — তা দিয়ে জমিদারিকে টিঁকিয়ে রাখে, তেমনি উপভাষাও নিয়মিত শব্দ, পরিভাষার জোগান, পদ এবং পদান্তর, নিত্য নতুন প্রকাশ ভঙ্গি, প্রবাদ প্রবচন এসবের মাধ্যমে এই ভাষা-জমিদারিকে সমৃদ্ধ করে রাখে। প্রজা বিহীন জমিদার যেমন অস্তিত্বহীন, তেমনি উপভাষাহীন ভাষাও একটি অবাস্তব ধারণা। উপভাষা হল মূল ভাষার ‘ফিডার ল্যাঙ্গুয়েজ’, যার কাজ হচ্ছে মূল ভাষার প্রাণ রসের জোগান দেওয়া।

বাকি অংশটি এখানে পডু়ন…

Posted in বাঙাল | 10 Comments »

পাবনা জেলার কথ্যভাষায় কিছু নমুনা

Posted by bangalnama on September 13, 2010


– লিখেছেন সন্তোষ কুমার রায়


বাঙালনামার কথায় পাবনা জেলার কথ্য ভাষায় কিছু লেখার জন্য রাজি হয়ে গিয়ে একটু বিপদই হল বলে মনে হচ্ছে, কেননা অর্দ্ধশতাব্দীর ওপর চর্চাবিহীন কাটাবার পর সে ভাষা স্মৃতি থেকে প্রায় বিদায় নিয়ে নিয়েছে। সে জায়গায় পাকাপাকি স্থান করে নিয়েছে কলকাতার কথ্য ভাষা। চেনা পরিচিতেরা আমাকে পশ্চিমবঙ্গীয় বলেই ভাবেন। শৈশব কৈশোরের সুখস্মৃতি নিয়ে নাড়াচাড়া করার এ সুযোগ হারাতে চাইনি বলে রাজী হয়েছি। ভুলভ্রান্তি যাতে না হয় সে বিষয়টা দেখতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। যাঁরা পাবনা জেলার বর্তমান বাসিন্দা বা যাঁরা সদ্য সেখান থেকে পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন তাঁদের কেউ লিখলেই ভাল হত, সেটা নিশ্চিত। কিন্তু ওই যে সুখস্মৃতি উপভোগের লোভ !


এ লেখায় কোন ভুলভ্রান্তি হলে অভিজ্ঞ কেউ সেটা ধরিয়ে দেবেন এই আশা রইল।

বাকি অংশটি এখানে পডু়ন…

Posted in বাঙাল | 1 Comment »

বর্ণে গন্ধে ছন্দে গীতিতে

Posted by bangalnama on September 13, 2010


– লিখেছেন ইন্দ্রনাথ মুখার্জী


কবীর সুমন লিখেছিলেন, “অসম্ভব”। শচীনকর্তার গান (এবং সুকুমার রায়ের লেখা) সুমনকে নিরঙ্কুশভাবে অসম্ভবের স্বাদ দেয়। আনন্দ বক্সী বলেছিলেন, “Sachin da is simply the best”। এখানেও সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ শব্দটা বোধহয় ‘simply’। সুরে এবং গায়কীতে ঐশ্বরিক সারল্যের যে মাধুর্য্য-স্বাদ শচীনকর্তা রেখে গেছেন তার নজির মেলা ভার। কিন্তু এমন জোয়ারিতে ভরপুর তীক্ষ্ণ কন্ঠ তিনি পেলেন কোথা থেকে?


কথা ছিলো রাজা হওয়ার, রাজার ছেলে কিনা। ত্রিপুরার রাজা ঈশানচন্দ্রমাণিক্যর মৃত্যুর সময়ে নাবালক ছিলেন তাঁর দুই পুত্র ব্রজেন্দ্র এবং নবদ্বীপচন্দ্র – তাই রাজা হিসাবে মনোনীত হন ঈশানচন্দ্রের ভাই বীরচন্দ্র। সেই নিয়ে মামলা হয় এবং তাতে জিতলেন বীরচন্দ্র। এরপর নবদ্বীপচন্দ্র মা কে সঙ্গে নিয়ে কুমিল্লা চলে আসেন।

বাকি অংশটি এখানে পডু়ন…

Posted in বাঙাল | 1 Comment »

বাঙালনামা’র সঙ্গে আলাপচারিতায় সুকুমার সমাজপতি – শেষ পর্ব

Posted by bangalnama on September 13, 2010


সাক্ষাৎকার নিয়েছেন – অনির্বাণ দাশগুপ্ত

(প্রথম পর্বের পর)


বাঙালনামা।। ওই ১৯৬১-তেই তো মারডেকাতে ভারতীয় দলের হয়ে খেলতে যান। কেমন লেগেছিল প্রথমবার দেশের হয়ে মাঠে নামতে?


সুকুমার সমাজপতি।। সেটা সম্পূর্ণ অন্য একটা অভিজ্ঞতা। ক্লাবের হয়ে খেলা আর দেশের হয়ে খেলার মধ্যে একটা পার্থক্য তো আছেই। দেশের হয়ে খেলার সময়ে তুমি একটা গোটা দেশকে রিপ্রেজেন্ট করো। ১৯৬১-তে মারডেকা খেলার সময়ে আমাদের কোচ রহিম সাহেবের কাছে আমার নামে রটনা হ্য় যে আমি নাকি চোখে বল দেখতে পাইনা। মারডেকার ম্যাচগুলো সবই হত সন্ধ্যাবেলায় বা রাতে, ফ্লাডলাইটের আলোয়। এই রটনা আমার কেরিয়ারে পরের বছর, অর্থাৎ ১৯৬২-তে যে কত ক্ষতি করে তা তুলনারহিত।


বাঙালনামা।। ১৯৬২-তে ভারতীয় ফুটবল দলের শেষ বড় অ্যাচিভমেন্ট জাকার্তা এশিয়ান গেমসে সোনা জেতা। সেই দলে আপনার সুযোগ না পাওয়ার পেছনে কি এই ষড়যন্ত্র বা রটনার কোনো ভূমিকা ছিল?


সুকুমার সমাজপতি।। আমার জীবনে সবচেয়ে যন্ত্রণার এবং শকিং ঘটনা হল ১৯৬২-তে এশিয়ান গেমসে ভারতীয় দলে চান্স না পাওয়া। আমার বিরুদ্ধে হওয়া রটনা বা ষড়যন্ত্রের ইন্টেন্সিটি এত প্রবল ছিল যে তাতে রহিম সাহেবের মত মানুষও প্রভাবিত হয়েছিলেন। মনে আছে টীম থেকে বাদ পড়ার খবর পেয়ে অঝোরে কেঁদেছিলাম। অসম্ভব মন খারাপ হয়েছিল। ইনফ্যাক্ট, এই ঘটনার ক্ষত আমার জীবনে কোনোদিনই নিরাময় হবে না। এখনো যখন কোনো অনুষ্ঠানে বা আড্ডাতে ১৯৬২-এর এশিয়ান গেমসের কথা ওঠে, আমি মাথা নিচু করে সেখান থেকে সরে আসি। কিছু কিছু যন্ত্রণার স্থায়িত্ব আমৃত্যু রয়ে যায়, এটা সেরকম।

বাকি অংশটি এখানে পডু়ন…

Posted in বাঙাল | 1 Comment »

বাঙালবৃত্তান্ত – পর্ব তিন

Posted by bangalnama on September 13, 2010


– লিখেছেন রঞ্জন রায়

(দ্বিতীয় পর্বের পর)


সতীনের নাম আরশোলা


সুষমা মারা গেছেন। খবরটা পেয়ে উদাস হয়ে সিগ্রেট ধরাতেই গিন্নি বল্লেন- কি, হয়েছেটা কি?


আমি বল্লাম যে নিজের সময়ের আগে জন্মানো একজন এই দুনিয়া থেকে পাততাড়ি গোটালেন। তারপর এই সুষমাটি কে? আমার সঙ্গে কিসের সম্পর্ক? – এইসব বাঁধাগতের হাবিজাবি কথা উঠতেই আমি ঠাকুমার একটি ছড়া ঝাড়লাম, — উনি আমার কি লাগেন? ঠাকুরবাড়ির গাই লাগেন।


তারপর বল্লাম যে উনি আমার কলকাতার পাতিপুকুর অঞ্চলের সেজপিসেমশায়ের সৎবোন, আবার ছত্তিশগড়ের রায়পুর শহরের দূর্গা কলেজের রেজিস্ট্রার কারকুনদা’র সৎমা। গিন্নি বিরক্ত হয়ে বল্লেন- পারো বটে খুঁজে খুঁজে আত্মীয় পাতাতে।


– বাজে বোকো না। বালকবয়সে আমি পাতিপুকুর বাড়ি গিয়ে ওনার জন্মসূত্রে অস্বাভাবিক মেয়ে নিশার ভাইফোঁটা নিয়েছি। এখন চিনিনা বললে চলবে? ধম্মে সইবে? তার চেয়ে লিপটনের চা বানাও আর সুষমার গপ্পো শোনো।

বাকি অংশটি এখানে পডু়ন…

Posted in কলকাতা, ফিরে দেখা, বাঙাল, ময়মনসিংহ, সাহিত্য | Leave a Comment »

নবগঙ্গা থেকে আদিগঙ্গা, ভুঁইফোঁড়দের সুলুক-সন্ধান*

Posted by bangalnama on September 13, 2010


– লিখেছেন রবি-দা


গড়ের মাঠ থেকে শিয়ালদা স্টেশন, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল থেকে ঠনঠনে কালীবাড়ি জোরে দাপিয়ে বেড়িয়েছে আমার উদ্বাস্তু শৈশব – খালি পায়ে এবং পায়ে পায়ে হেঁটে – যার স্মৃতি রোমন্থন করেই শুধু কাটিয়ে নেওয়া যায় অবসরের অলস দুপুর আর খুঁচিয়ে দেওয়া যায় স্বপ্নপূরণের খিদেটাকে। হাঁটা শিখেছিলাম নিজের অজান্তে, দুর্বিসহ যন্ত্রণার মধ্যে – গেদে থেকে ঠাকুমার হাত ধরে লং রুট মার্চের প্রশিক্ষণ, অচেনা পথ চলার হাতেখড়ি। শুনেছিলাম কিছু একটা গাড়ি থাকবে বর্ডারে, ছিলও সত্যি সত্যি, কিন্তু ছিল না দশজন মানুষের হঠাৎ করে কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়া ভাড়া দেওয়ার ক্ষমতা। যা ছিল তার বেশিটাই তো কেড়েকুড়ে নিয়েছিল আগেই, আর মওকা বুঝে স্বাধীন ভারতের নতুন প্রভাতে ধনী হওয়ার স্বপ্নে বিভোর কিছু বণিক কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিল বাস/ট্রাকের ভাড়া – কারণ চাহিদা আর যোগানের দাবিটা ছিল দিনের আলোর মত পরিষ্কার। রেলপথ বন্ধ কিন্তু আরোহীর অভাব ছিল না। খাদ্যের খোঁজে বেরনো লাল পিঁপড়ের সারির মতই আদুর গায়ের মানুষের মহামিছিল থেকেই শুরু হল আমার নতুন জীবন – “বাঙাল”-এ রূপান্তর। ওই মিছিল থেকেই খালি গায়ে, খালি পায়ে আর খালি পেটে সেই বাঙাল ঘুরে দাঁড়াবার মন্ত্র শিখেছিল বেওয়ারিশ পাঠশালায়।

বাকি অংশটি এখানে পডু়ন…

Posted in বাঙাল | 10 Comments »

সেই সময়ের গল্প – পর্ব দুই

Posted by bangalnama on September 13, 2010


– লিখেছেন সন্তোষ কুমার রায়

(প্রথম পর্বের পর)


শৈশব কৈশোরের অনেকটা সময়ই কাটিয়েছি মামার বাড়িতে। সেখানে থাকার কারণ ছিল। আমি যখন বছর তিনেকের বা তার একটু বেশী তখন আমার পরের ভাই হল। পাবনার একান্নবর্তী পরিবারের সব কাজ সামলে দু’টি সন্তানকে দেখাশোনা করা মায়ের পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। এছাড়া আমার মামার বাড়িতে তখন ছিল একটা শিশুর অভাব। মামারা সবাই প্রায় বড় হয়ে গেছেন আর তাঁদের সন্তানসন্ততিও হয়নি। সুতরাং আমাকে আনা হয়েছিল। তখন আমার বয়স পাঁচ বছর বা তারও কম। মাঝে মাঝে পাবনায় আসতাম কিছু দিনের জন্য।


অক্ষর পরিচয় হয়েছিল দাদু (দাদামশায়)র কাছে আর প্রাথমিক শিক্ষা গ্রামের পাঠশালায় – যার নাম ছিল ‘রামসুন্দরের পাঠশালা’। রামসুন্দরবাবু ছিলেন ঐ পাঠশালার ‘বড়মাস্টার’। তাই ঐ নাম।


মাতৃস্নেহ আর দিদিমার স্নেহ একত্রে পেয়েছিলাম দিদিমার কাছ থেকে। তিনি দিদিমা অপেক্ষা ‘দিদিমনি’ ডাকটাই বেশী পছন্দ করতেন। তাই তিনি আমার দিদিমনি ছিলেন এবং দ্রুত উচ্চারিত হওয়ার কারণে অচিরেই দিদিমনি ‘দিয়ানি’ হয়ে গেলেন।

বাকি অংশটি এখানে পডু়ন…

Posted in বাঙাল | 1 Comment »

আমোদিনী’র হেঁশেল – চতুর্থ পর্ব

Posted by bangalnama on September 13, 2010


লেখা ও ছবি – দেবলীনা সেন

(তৃতীয় পর্বের পর)


শুভদিনের ভোজ


ছেলেমেয়েরা কয়েকদিন পরীক্ষা নিয়ে খুব ব্যস্ত ছিল। আদা-জল খেয়ে পড়াশুনা করেছে এবং পরীক্ষার ফলাফল সকলেই মোটামুটি ভাল করেছে। গণু বড়ই ফাঁকিবাজ, আমোদিনী ওনার মেজ ছেলেকে চোখে চোখে রাখেন। তাতে এবারও কাজ হয়েছে, গণু ফার্স্ট ডিভিশানে পাশ করেছে।


পারুলের পড়ায় বিশেষ মন নেই, কিন্তু মেয়েটা সত্যিই খাটতে পারে। সবরকমের কাজে ওকে পরিশ্রম করতে হয়। পরিশ্রমই যেন পারুলের সাধনা।


গৌরী সবচেয়ে ছোট – খুব আদুরে মেয়ে। পরীক্ষার রেজাল্ট যেদিন বেরোয়, বাবাকে এসে খুব খুশিভাবে বলেছে, “বাবা, আমি পাশও না, ফেলও না।” এই অদ্ভুত খবর সকলের কানে পৌঁছাতেই সকলে এগিয়ে এল জানতে যে ব্যাপারটা কী।

বাকি অংশটি এখানে পডু়ন…

Posted in বাঙাল | 8 Comments »

অবিস্মরণীয় তেভাগা সংগ্রাম ও দিনাজপুর

Posted by bangalnama on September 13, 2010


– সুশীল সেন


সম্প্রতি বালুরঘাটের খাঁপুর গ্রামে তেভাগা সংগ্রামের রজত জয়ন্তী পালিত হইল। এই খাঁপুর গ্রামে ১৯৪৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সশস্ত্র পুলিশ ঐ সংগ্রাম দমনের জন্য কৃষকদের উপর একদিনে ১২১ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করিয়া ২২ জন কৃষককে হত্যা করে। আহতদের বালুরঘাট হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার মৃত্যুপথযাত্রী একজন কৃষককে তাঁহার শেষ ইচ্ছা জানিবার জন্য জিজ্ঞাসা করিলেন — “আপনি কী চান?” ক্ষীণকন্ঠে সংগ্রামী কৃষকটি উত্তর দিলেন– “তেভাগা চাই।” তারপরই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সেদিন তেভাগার দাবি ঐ জিলার নিপীড়িত কৃষকদের মনে কত গভীর রেখাপাত করিয়াছিল তাহা ঐ উক্তি হইতেই উপলব্ধি করা যায়।


১৯৪৬-৪৭ সালের ধানকাটার মরশুমের সেই অবিস্মরণীয় দিনগুলিতে অবিভক্ত বাংলার প্রায় ১৯টি জিলার কৃষকরা ঐ তেভাগা সংগ্রামে যোগদান করে। সংগ্রামের প্রধান এলাকা ছিল উত্তরবঙ্গ — দিনাজপুর, রংপুর ও জলপাইগুড়ি জিলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল। ঐ অঞ্চলে বর্গাদাররা আধিয়ার নামে পরিচিত। আর এই আধিয়ার কৃষকদের অধিকাংশই ছিল রাজবংশী বা ক্ষত্রিয় এবং সাঁওতাল। কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে এবং কৃষক সমিতির পরিচালনায় ঐ সংগ্রাম সংগঠিত হইয়াছিল। সামন্ততান্ত্রিক ভূমি ব্যবস্থার সীমাহীন শোষণের বিরুদ্ধে নিপীড়িত কৃষকদের বীরত্বপূর্ণ বিদ্রোহের যে ব্যাপক বিস্ফোরণ সেদিন ঘটিয়াছিল তাহা অভূতপূর্ব ও অবিস্মরণীয়। অবিভক্ত দিনাজপুর জেলার ৩০টি থানার মধ্যে ২২টি থানার আধিয়ার কৃষকরা ঐ সংগ্রামে যোগ দেয়। ঐ এক জিলাতেই চারটি অঞ্চলে পুলিশের গুলিতে ৪০ জন কৃষক শহীদ হয়। দুই হাজার কৃষক কারাবরণ করে। শত শত কৃষক কর্মী গ্রেপ্তারী পরোয়ানা উপেক্ষা করিয়া সংগ্রাম পরিচালনা করেন ও আত্মগোপন করিয়া থাকেন। কৃষকদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলা দায়ের হয়। স্বাধীনতা লাভের পর ঐ সকল মামলা ও ওয়ারেন্ট প্রত্যাহৃত হয়।

বাকি অংশটি এখানে পডু়ন…

Posted in বাঙাল | Leave a Comment »

তেভাগা সংগ্রামের স্মৃতিকথা

Posted by bangalnama on September 13, 2010


– লিখেছেন মণি সিংহ


১৯৪৬-৪৭ সালে ডিসেম্বর, জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি মাসে তখনকার পূর্ববঙ্গ (বাংলাদেশ) ও পশ্চিমবঙ্গে যে তেভাগা সংগ্রাম হইয়াছিল তা ছিল যেমন বিরাট, তেমনি জঙ্গী। ৬০ লাখ দুঃস্থ ভাগচাষী হিন্দু, মুসলমান, উপজাতি মেয়ে-পুরুষ জীবনকে তুচ্ছ করিয়া ঐ সংগ্রামে ঝাঁপাইয়া পড়িয়াছিলেন। বাংলার মাটি হিন্দু, মুসলমান উপজাতি মেয়ে-পুরুষ কৃষকের রক্তে লালে লাল হইয়া পৃথিবী বিখ্যাত এক কৃষক আন্দোলনের ইতিহাস সৃষ্টি হইয়াছে। সারা পৃথিবীতে যতগুলি বিরাট বিরাট কৃষক আন্দোলন আজ পর্যন্ত হইয়াছে বাংলার তেভাগা আন্দোলন তাহার অন্যতম। ইহা আজ আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত। এই আন্দোলনের ফলশ্রুতি হিসাবে পশ্চিমবঙ্গে ভাগচাষ প্রথার আমূল পরিবর্তন হইয়াছে। বাংলাদেশে আজও ভাগচাষ প্রথা বিলোপ হয় নাই সত্য, কিন্তু বাংলাদেশের জনসাধারণের সঙ্গে দুঃস্থ কৃষক সমাজ বাংলাদেশে স্বাধীনতা সংগ্রাম করিয়া যুগান্তকারী বিজয় অর্জন করিয়াছে। বাংলাদেশে অভ্যুদয় হইয়াছে এক স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্রের। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে গরিব কৃষক সমাজের অবদান অপরিসীম।


বাংলাদেশে জমিদারী প্রথা বিলুপ্ত। সামন্ততান্ত্রিক অবশেষগুলি বিশাল কৃষক সমাজের মুখোমুখি দাঁড়াইয়া থরথর করিয়া কাঁপিতেছে, কারণ আমাদের রাষ্ট্রের লক্ষ্য সমাজতন্ত্র।


প্রকৃতির অমর সৃষ্টি বাংলা। নদীমাতৃক বাংলা। ঊর্বর ভূমির লাঙলের ফলায় প্রকৃতির অকৃপণ দান। এমনি প্রাণোচ্ছল পরিবেশেও চাষী নিপীড়িত, নির্যাতিত আর বঞ্চিত হইয়াছে। কিন্তু চাষী এই নিপীড়ন মুখ বুজিয়া সহ্য করে নাই। শিখার মতো জ্বলিয়া উঠিয়াছে। বীরের মতো লড়াই করিয়াছে। সেই শিখা সময়ে সময়ে স্তিমিত হইয়াছে সত্য, কিন্তু ঐ জ্বলন্ত শিখাকে কোনোদিন চিরতরে নিভানো যায় নাই। অনুকূল বাতাসে তাহা আবার জ্বলিয়া উঠিয়াছে।

বাকি অংশটি এখানে পডু়ন…

Posted in বাঙাল | Leave a Comment »

তেভাগা নেত্রী কমরেড ইলা মিত্রের জবানবন্দী

Posted by bangalnama on September 13, 2010


(তেভাগা আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে নাচোল বিদ্রোহের উপর পুলিশি দমনপীড়ন ও ব্যাপক ধরপাকড়ের পর রাজশাহী কোর্টের মামলা চলাকালীন কমরেড ইলা মিত্র তাঁর ওপর পুলিশি অত্যাচারের যে ঐতিহাসিক জবানবন্দীটি পেশ করেছিলেন, বানান অবিকৃত রেখে সেটি এখানে তুলে দেওয়া হল। প্রসঙ্গতঃ, বাঙালনামার তেভাগা সংখ্যায় কমরেড ইলা মিত্রের জীবন ও কাজ নিয়ে ওনার ছেলে মোহন মিত্রের একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছিল। – সম্পাদক)

বাকি অংশটি এখানে পডু়ন…

Posted in বাঙাল | 3 Comments »

 
%d bloggers like this: