বা ঙা ল না মা

চান্দ্রদ্বীপি শোলোক শাস্তর পল্্কি কথা

Posted by bangalnama on December 22, 2010


– লিখেছেন মিহির সেনগুপ্ত

চন্দ্রদ্বৈপায়ন মনুষ্যেরা রোমন্থন বা জাবরকাটায় যে জবরদস্ত এলোমেলোবাগীশ এ-কথা রাঢ়ে বঙ্গে সবাই জানেন। বরিশাল নামক ভূভাগটিকে এই রচনায় চন্দ্রদ্বীপ বলে এবং তৎস্থানীয় ভূমিপুত্রদের চন্দ্রদ্বৈপায়ন অভিধায় ভূষিত করলে, আশা করি কেউ আপত্তি করবেন না। নামে কী আসে যায়?


দেশভাগ, দাঙ্গা, ভিটেমাটি থেকে উৎখাত হওন ইত্যাদি অজস্র কারণে জাবরকাটা স্বভাবটি এই উজানি দেশের মানুষদের যেন ষোলোআনা থেকে আঠারো আনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। যাঁরা সেই স্থান ত্যাগ করে এপারে এসেছেন তাঁরাও যেমন, আবার যাঁরা সেই স্থানে ছিটেফোঁটা এখনো আছেন তাঁরাও, সমান দড়। তা বলে কেউ ভাববেন না যেন, আমি শুধু ছিন্ন-শেকড় সংখ্যালঘুদের স্বভাবের কথাই এখানে বলছি। এ-স্বভাব সেখানকার সংখ্যাগুরুদের ক্ষেত্রেও ষোলো থেকে আঠারো আনা রয়েছে।


স্বভাবটি নিতান্ত গো-স্বভাব বটে, কিন্তু তাতে বিলক্ষণ আত্মমগ্নতা। ফলত, এই সব ছিন্ন-শিকড় দ্বৈপায়নেরা যখন কোথাও ‘দলামোচা’ হন, তখন ‘সকায় নিরুত্তিয়া’য় তাঁদের মুখে যে খই ফোটে, তার তুল্য রসবর্ষা এ পোড়া পরবাসে বড় সহজলভ্য নয়। তখন কখনও ‘নাইরকোল সুবারির’ বাগান-বিষয়ক, কখনও নদী, হাওড়, বাওড়, ‘বৃহৎ পুষ্করিণী’, খাল, বিলের অতিকায় স্বাদু মৎস্যাদির এবং এককথায় অতি সমৃদ্ধ এককালের গেরস্থালির পরণ-কথা, কখনও-বা সেই স্বর্গ থেকে উৎখাত হওয়ার বীভৎস এবং করুণ স্মৃতি রোমন্থনে উদ্বেল হয়ে ওঠা। সেই ক্ষণে, এপারে লব্ধ শীলিত ভাষা বেমালুম বিস্মৃত হয়ে খাঁটি চান্দ্রদ্বীপি সকায় নিরুত্তিয়ায় মুখর হলে প্রতিবেশী ‘ঘটি’ পুঙ্গবদের হৃদয়হীন ‘ডিম্বকরণে’র পাত্র হয়ে থাকেন এঁরা। দেশভাগের পর থেকে এ কেত্তন অদ্যাবধি অব্যাহত। চন্দ্রদ্বৈপায়নী বা চান্দ্রদ্বীপি নিরুত্তিয়াটি একটু অতিপ্রাকৃত স্বভাববিশিষ্ট এবং ঘটি শ্রোতাদের ক্ষেত্রে পায়ুপ্রদাহী সন্দেহ নেই, কিন্তু সে-ফৈজত তো ঐতরেয় ব্রাহ্মণের যুগ থেকেই চলে আসছে দেবভাষাভাষিদের সঙ্গে প্রাচীন প্রাকৃতভাষীদের, তৎকালে সে-কারণেই না তামাম বঙ্গীয়কুল ‘ভাষাহীন পক্ষী’ বলে দেবভাষীদের দ্বারা আখ্যায়িত হয়েছিলেন। যথা- ইমাঃ প্রজস্তিস্ত্র অত্যায় মায়ং স্তানি মানি বয়াংসি বঙ্গ– বগধাশ্চেরঃ পাদ্যান্যনা অকর্মভিতো বিবিশ্র ইতি। এই মানসিকতাটিরই সর্বশেষ প্রকাশ ঘটেছে ঘটি-বাঙাল সংলাপজনিত কাজিয়ায়।


যদিও এ আলেখ্য বঙাল বঙ্গীয় ভাষা বা শব্দ বিষয়ক নয়, তথাপি প্রসঙ্গটি এ কারণে তোলা হল যে, রোমন্থনের যে-বিষয় নিয়া বাকতাল্লা মারতে যাচ্ছি, তা একান্তভাবে অথবা প্রধানত চান্দ্রদ্বীপি শব্দজ বচন-বাচনে অাকীর্ণ।

বাকি অংশটি এখানে পডু়ন…

Posted in জাত, বরিশাল, বাংলা, বাঙাল, ভাষা, রম্যরচনা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি | Leave a Comment »

অসমিয়া ভাষা, সিলেটি উপভাষা এবং অসমে ভাষাচর্চার রূপরেখা

Posted by bangalnama on December 22, 2010


– লিখেছেন সুশান্ত কর

।। সিলেটি উপভাষা এবং বরাক উপত্যকার ভয় ।।

বাংলার উপভাষা সিলেটি নিয়ে অসমের বাঙালি যত না চর্চা করেছে বিদগ্ধ অসমিয়া পন্ডিতেরা তার চেয়ে বেশি আলোচনা করেছেন। সেপ্টেম্বর ২০১০-এ প্রকাশিত ‘বাঙ্গালনামা’র দ্বিতীয় বর্ষ দ্বিতীয় সংখ্যাতে প্রকাশিত ‘প্রসঙ্গ সিলেটি ভাষা’ লেখাতে সঞ্জীব দেব লস্কর লিখেছেন, “ইতিমধ্যে সিলেট মদনমোহন কলেজের প্রাক্তন উপাধ্যক্ষ প্রণব সিংহ, বরাক উপত্যকার জন্মজিৎ রায়, আবুল হোসেন মজুমদার, উষারঞ্জন ভট্টাচার্য কিছু কাজ করেছেন, একটি সম্পূর্ণ অভিধান, বলা চলে কোষগ্রন্থই রচনা করেছেন জগন্নাথ চক্রবর্তী, আর আবিদরাজা মজুমদারের আরেকটি অভিধানও প্রকাশের পথে। বর্তমান লেখকের এ দিকে মোটেই কোনো বিশেষ পাঠ বা অনুধ্যানই নেই।” সঞ্জীব যাদের নাম করেছেন তাদের মধ্যে প্রণব সিংহের সঙ্গে বর্তমান লেখকের পরিচয় নেই। বাকিরা প্রত্যেকেই গবেষক-অধ্যাপক তথা শিক্ষক এবং বহু গ্রন্থের লেখক বটে। উষা রঞ্জন অনুবাদ সাহিত্যে সাহিত্য একাদেমি পুরস্কারও পেয়েছেন এবং বর্তমান লেখকের শিক্ষক। কিন্তু সম্ভবত কেউই পূর্ণকালীন ভাষা গবেষক নন। কেবল মাত্র সম্প্রতি প্রকাশিত জগন্নাত চক্রবর্তীর অভিধান দেখায় গুণগত ভাবে প্রয়াসগুলো যাই হোক না কেন, পরিমাণগত দিক থেকে তাঁর ভাষা অধ্যয়ন বেশ সুগভীর এবং আন্তরিক। যদিও তিনি ‘বরাক বাংলা’ বলতে ঠিক কোনটিকে বোঝাতে চেয়েছেন সেই প্রশ্নটি অস্পষ্ট থেকেই গেছে। সঞ্জীব বরাক উপত্যকার বিদগ্ধ লেখক । তাঁর কথাতে নির্ভর করতে পারি ।


সঞ্জীব সঙ্গতকারণেই “…এ সময়ের কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে” অভিযোগ জানিয়ে লিখেছেন, “… এ উপভাষাকে একটা ভাষার স্খলন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতেও প্রয়াসী।” তিনি বেশ উৎসাহ ভরে লিখেছেন ,”… এখন শিল্প সংস্কৃতির রাজধানী কলিকাতায় জিন্স পরা ইলেকট্রনিক যন্ত্র হাতে নাগরিক ব্যান্ডের শিল্পীরা (দোহারঃ লেখক) দুনিয়ার যত বাঙাল কবির পদ গেয়ে আসর জমিয়ে রাখছে। সিলেটি হাসন রাজাকে তো কবিগুরু অনেক আগেই জগৎ সভায় প্রতিষ্ঠিত করে দিয়েছেন। …আমাদের ভাষাপৃথিবীর এই যে বিস্তৃতির সূচনা, এটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে বিভিন্ন ঔপভাষিক অঞ্চলের বাঙালিদের সচেষ্ট হওয়া প্রয়োজন।” কিন্তু এর পরেই লিখলেন, “এ অবস্থায় বরাক উপত্যকার বাঙালিরা সিলেটি ভাষা, অর্থাৎ উপভাষা নিয়ে অতি উৎসাহী হলে, এদের ভাষিক অস্তিত্বকে অস্বীকার করতে সদা সচেষ্ট এক শ্রেণির অসমিয়া নেতৃত্ব একটা বিশেষ মওকা পেয়ে যেতে পারেন।” এই শেষোক্ত মন্তব্য একটি ধোঁয়াসা তৈরি করে । এটি বরাক উপত্যকার বিদ্যায়তনিক মহলে একটি প্রতিষ্ঠিত অভিমত। এক গড়ে তোলা চিহ্ন বিশেষ। এই ভয়ের স্পষ্ট কারণ হলো সিলেটি আর অসমিয়ার মধ্যেকার মিলগুলো খুবই চোখে পড়বার মতো । তাতে করে সুনীতি চট্টপাধ্যায়ের ছাত্র বাণীকান্ত কাকতি বাদে প্রায় সমস্ত অসমিয়া ভাষাতাত্বিক সিলেটিকে অসমিয়া বলে চালিয়ে দেবার চেষ্টা করেন। এই তালিকাতে শেষতম সংযোজন ড০ উপেন রাভা হাকাচাম ।

বাকি অংশটি এখানে পডু়ন…

Posted in জাতি, দেশভাগ, বঙ্গভঙ্গ, বাংলা, ভাষা, সিলেট | 3 Comments »

সিলেট-কাছাড়ের বাউল পরম্পরা

Posted by bangalnama on December 22, 2010


– লিখেছেন সঞ্জীব দেবলস্কর

যদিও দুটি অঞ্চল দুটি ভিন্ন রাষ্ট্রের অন্তর্গত, তবু সিলেট-কাছাড়কে আমরা একটি শব্দবন্ধে আনছি – কারণ প্রাচীন, মধ্যযুগ পেরিয়ে আধুনিক যুগ পর্যন্ত এই অঞ্চলটি একটি একক সাংস্কৃতিক অঞ্চল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এই অঞ্চলটির লোকায়ত জীবন এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের দিকে দৃষ্টিপাত করলে আমরা আশ্চর্য্যজনকভাবে সমন্বয়ধর্মী, উদার এবং সংস্কারমুক্ত একটি সংস্কৃতির পরিচয় পাই। সাংস্কৃতিক দিকে এই অঞ্চলটি শাহজালাল-শ্রীচৈতন্যেরই অঞ্চল। এখানে সুফিতত্ত্ব এবং বৈষ্ণবতত্ত্ব মিলে-মিশে এক হয়েছে। মধ্যযুগে যে সুফিমতের ইসলাম ধর্ম এখানে এসেছিল এর সঙ্গে বাংলা প্রচলিত যোগমার্গ এবং অন্যান্য আধ্যাত্মিক সাধন মার্গের একটা সমন্বয় গড়ে উঠেছে। শাহজালাল-শ্রীচৈতন্যের আত্মপ্রকাশের পূর্বে, দশম-একাদশ শতকে এই অঞ্চলটিতে বৌদ্ধ সহজিয়া দর্শন ও সাধনতত্ত্ব প্রচলিত ছিল।

বাকি অংশটি এখানে পডু়ন…

Posted in কবিতা, সংগীত, সংস্কৃতি, কৃষ্টি, সাহিত্য, সিলেট | Leave a Comment »

একটি কাল্পনিক কথোপকথন : ময়মনসিংহের উপভাষায়

Posted by bangalnama on December 22, 2010


– লিখেছেন রঞ্জন রায়

(সকালবেলা, একটু সংযুক্ত পরিবারের ঘর)


ঠাকুরমা: উঠরে ভাইয়েরা, দাদুরা! উইঠ্যা পড়। রইদ উঠছে, মেলা বেলা হইছে। অ ধন! উইঠ্যা পড়, হাত-মুখ ধইয়া পড়তে বও। “সকালে শয়ন করি, সকালে উঠিবে, সুস্থ সুখী ধনী-জ্ঞানী তবে তো হইবে।”


নাতি-১: ঠাম্মা, সাত-সক্কালে খামাখা প্যাচাল পাইড়ো না।


ঠাকুরমা: কি কইলি? আমি প্যাচাল পাড়ি? হাচই?‍


নাতি-১: হ’, কইলাম। হাচা কথা।


ঠাকুরমা: আরে “রাত্তিখানি উনিপুক, তার নাই নাকমুখ”! হে আইছে আমারে শিখাইতে? আরে আউয়াখানা, আরে প্যাট ব্যাক্কল! আমার তিনকাল গিয়া এককালে ঠেকছে আর এখন তরার কাছ থেইক্যা শিখন লাগবো?


হাইগ্যা হচতে শিকছস্্ নি? এখনও সর্দি হইলে নাক দিয়া তর পাকনা লডা বাইরয়, ঠিকমত সান করস্্ না। তুই আর রাও করিস না! এমুন হারগাজা!

বাকি অংশটি এখানে পডু়ন…

Posted in বাঙাল, ভাষা, ময়মনসিংহ, রম্যরচনা | 3 Comments »

তথ্যচিত্র ঃ ইলা মিত্র

Posted by bangalnama on December 22, 2010


তেভাগা আন্দোলনের প্রবাদপ্রতিম নেত্রী ইলা মিত্রের সাক্ষাৎকার সম্বলিত, ইন্দ্রাণী চক্রবর্তী পরিচালিত ও স্কাই(বি) বাংলা প্রযোজিত, এই তথ্যচিত্রটি বাঙালনামার তেভাগা আর্কাইভ-এ যুক্ত হল। তথ্যচিত্রটি আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন ইলা মিত্রের ছেলে রণেন (মোহন) মিত্র। তাঁকে বিশেষ ধন্যবাদ জানাই।


ইতিপূর্বে ইলা মিত্রর জীবন ও তেভাগায় তাঁর নেতৃত্ব সম্পর্কিত কিছু নিবন্ধ ও মোহন মিত্রর সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকার বাঙালনামার তেভাগা আর্কাইভ-এ প্রকাশিত হয়েছে। – সম্পাদক

________________________



Posted in Uncategorized | 1 Comment »

বাঙালনামা ঃ দ্বিতীয় বর্ষ, দ্বিতীয় সংখ্যা

Posted by bangalnama on September 13, 2010



কৈফিয়ৎ

এই যে আমরা কথায় কথায়, কারণে অকারণে কলার তুলে বলে থাকি, ‘আ মরি বাংলা ভাষা’, আদতে পৃথিবী জুড়ে ২৩ কোটির মুখে মুখে ফেরা, তৃষ্ণার জল-মেটানো মহানদীটির প্রাণরসের যোগান দেয় যে অজস্র উপনদী আর ফিডার ক্যানাল, তার খবর কে রাখে! পুব ও পশ্চিম বাংলার জেলায়-জেলায় রয়েছে এই যোগানের উৎস। কথাটা মাথায় রেখে, ভবিষ্যতে ভাটিপুত্রদের নানান ব্লগ-বাখোয়াজির প্রতিশ্রুতি দিয়েই এই সংখ্যায় শুরু হল বাঙালনামার নতুন বিভাগ – পুববাংলার বাংলা উপভাষা। সিলেটি প্রসঙ্গে আলোচনা লিখতে বসে সঞ্জীব দেবলস্কর লিখেছেন, “মূল ভাষার সঙ্গে এ উপভাষার সম্পর্ক রাজা আর প্রজার সম্পর্ক নয়, সিলেটিতে বললে, জমিদার-রাইয়তের সম্পর্ক নয়, যদিও জমিদারি ব্যবস্থার মতো এখানেও রয়েছে খাজনা আদান প্রদানের প্রথা। রাইয়ত, অর্থাৎ প্রজা যেমন নিয়মিত খাজনা, সেটা নগদ পয়সাতেই হোক বা উৎপাদিত শস্যের বখরা, কিম্বা বেগার শ্রমদানের মাধ্যমেই হোক — তা দিয়ে জমিদারিকে টিঁকিয়ে রাখে, তেমনি উপভাষাও নিয়মিত শব্দ, পরিভাষার জোগান, পদ এবং পদান্তর, নিত্য নতুন প্রকাশ ভঙ্গি, প্রবাদ প্রবচন এসবের মাধ্যমে এই ভাষা-জমিদারিকে সমৃদ্ধ করে রাখে।” পাবনা জেলার কথ্য ভাষা নিয়ে লেখাটিতে আলোচনা-নমুনার উপরি পাবেন বিশুদ্ধ নস্টালজিয়া।

বাংলা ও বাঙালির সাম্প্রতিক ইতিহাসে সাতচল্লিশের মত সাল কমই এসেছে। সময়ের ধর্মে দগদগে ঘা মিটলেও the most unkindest cut এর স্মৃতি থেকে গেছে জাতির মনের গভীর গোপনে, ইতিহাস থেকে বর্তমানে। দেশভাগ-উদ্বাস্তুদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম, পারিবারিক ইতিহাস সংকলিত করতে বাঙালনামা চিরঅঙ্গীকারবদ্ধ। এবারের ‘বাঙালের ডায়েরি’তে উঠে এসেছে এমনই তিনটি ধারাবাহিক লেখা। ‘বাঙালবৃত্তান্ত’ ও ‘সেই সময়ের গল্প’-র নতুন পর্বের পাশাপাশি শুরু হল শহর কলকাতায় রিফিউজি শৈশব-কৈশোরের স্মৃতিসমৃদ্ধ, ভুঁইফোঁড়দের সুলুকসন্ধান।

গতবারের তেভাগা সংখ্যায় আমরা পুরোনো পত্রপত্রিকায় বেরোনো কিছু প্রবন্ধাদি নিয়ে শুরু করেছিলাম তেভাগা আর্কাইভ। এবারে দিনাজপুর, রংপুর, মেদিনীপুর, নাচোলের কৃষক-সংগ্রামের আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল এতে সংযোজিত হল। এছাড়া এই সংখ্যায় থাকল শচীনকর্তাকে নিয়ে জলসাঘর বিভাগের নতুন লেখা, সুকুমার সমাজপতির সাক্ষাৎকারটির শেষ অংশ, আমোদিনীর হঁেসেলের জিভে-জল-আনা চতুর্থ পর্ব।

***


সূচীপত্র

নিবন্ধ ঃ পূর্ববঙ্গের বাংলা উপভাষা
প্রসঙ্গ সিলেটি ভাষা – সঞ্জীব দেবলস্কর
পাবনা জেলার কথ্যভাষার কিছু নমুনা – সন্তোষ কুমার রায়

জলসা-ঘর
‘বর্ণে গন্ধে ছন্দে গীতিতে’ – ইন্দ্রনাথ মুখার্জী

সাক্ষাৎকার
আলাপচারিতায় সুকুমার সমাজপতি, শেষ পর্ব – অনির্বাণ দাশগুপ্ত

ধারাবাহিক
আমোদিনীর হঁেসেল, চতুর্থ পর্ব – দেবলীনা সেন


প্রচ্ছদ: মানালি রায় (ঝিঙ্কা)
১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০১০

ধারাবাহিক ঃ বাঙালের ডায়েরি
বাঙালবৃত্তান্ত – রঞ্জন রায়
নবগঙ্গা থেকে আদিগঙ্গা, ভুঁইফোঁড়দের সুলুকসন্ধান – রবিদা
সেই সময়ের গল্প – সন্তোষ কুমার রায়

তেভাগা আর্কাইভ – সংযোজন
কৃষক সংগ্রামে এক অমর অধ্যায়, তেভাগার লড়াই – বিনয় চৌধুরী
অবিস্মরণীয় তেভাগা সংগ্রাম ও দিনাজপুর – সুশীল সেন
তেভাগা সংগ্রামের স্মৃতিকথা – মণি সিংহ (রংপুর)
মেদিনীপুরে তেভাগা সংগ্রাম – ভূপাল পান্ডা
তেভাগা নেত্রী কমরেড ইলা মিত্রের জবানবন্দী
তেভাগা আন্দোলন ও সলিল চৌধুরীর গান – সমীর কুমার গুপ্ত

Posted in বাঙালনামা সাময়িকী | 1 Comment »

প্রসঙ্গ সিলেটি ভাষা

Posted by bangalnama on September 13, 2010


– লিখেছেন সঞ্জীব দেবলস্কর

(১)


লোকে বলে সিলেটি ‘ভাষা’। আসলে এটা ‘উপভাষা’। ইংরেজিতে যাকে বলে ডায়লেক্ট। একটি মূল ভাষার অন্যতম উপাদানই হ’ল এর উপভাষা, যাকে আঞ্চলিক ভাষাও বলা চলে। অনেকগুলো অঞ্চলের সমষ্টি যেমন একটি প্র-দেশ, কিম্বা দেশ, তেমনি অনেকগুলো আঞ্চলিক ভাষা বা উপভাষার সমষ্টিই হ’ল একটি মূল ভাষা, যাকে ভাষাবিজ্ঞানীরা বলছেন মান্য চলিত ভাষা। মূল ভাষার সঙ্গে এ উপভাষার সম্পর্ক রাজা আর প্রজার সম্পর্ক নয়, সিলেটিতে বললে, জমিদার-রাইয়তের সম্পর্ক নয়, যদিও জমিদারি ব্যবস্থার মতো এখানেও রয়েছে খাজনা আদান প্রদানের প্রথা। রাইয়ত, অর্থাৎ প্রজা যেমন নিয়মিত খাজনা, সেটা নগদ পয়সাতেই হোক বা উৎপাদিত শস্যের বখরা, কিম্বা বেগার শ্রমদানের মাধ্যমেই হোক — তা দিয়ে জমিদারিকে টিঁকিয়ে রাখে, তেমনি উপভাষাও নিয়মিত শব্দ, পরিভাষার জোগান, পদ এবং পদান্তর, নিত্য নতুন প্রকাশ ভঙ্গি, প্রবাদ প্রবচন এসবের মাধ্যমে এই ভাষা-জমিদারিকে সমৃদ্ধ করে রাখে। প্রজা বিহীন জমিদার যেমন অস্তিত্বহীন, তেমনি উপভাষাহীন ভাষাও একটি অবাস্তব ধারণা। উপভাষা হল মূল ভাষার ‘ফিডার ল্যাঙ্গুয়েজ’, যার কাজ হচ্ছে মূল ভাষার প্রাণ রসের জোগান দেওয়া।

বাকি অংশটি এখানে পডু়ন…

Posted in বাঙাল | 11 Comments »

পাবনা জেলার কথ্যভাষায় কিছু নমুনা

Posted by bangalnama on September 13, 2010


– লিখেছেন সন্তোষ কুমার রায়


বাঙালনামার কথায় পাবনা জেলার কথ্য ভাষায় কিছু লেখার জন্য রাজি হয়ে গিয়ে একটু বিপদই হল বলে মনে হচ্ছে, কেননা অর্দ্ধশতাব্দীর ওপর চর্চাবিহীন কাটাবার পর সে ভাষা স্মৃতি থেকে প্রায় বিদায় নিয়ে নিয়েছে। সে জায়গায় পাকাপাকি স্থান করে নিয়েছে কলকাতার কথ্য ভাষা। চেনা পরিচিতেরা আমাকে পশ্চিমবঙ্গীয় বলেই ভাবেন। শৈশব কৈশোরের সুখস্মৃতি নিয়ে নাড়াচাড়া করার এ সুযোগ হারাতে চাইনি বলে রাজী হয়েছি। ভুলভ্রান্তি যাতে না হয় সে বিষয়টা দেখতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। যাঁরা পাবনা জেলার বর্তমান বাসিন্দা বা যাঁরা সদ্য সেখান থেকে পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন তাঁদের কেউ লিখলেই ভাল হত, সেটা নিশ্চিত। কিন্তু ওই যে সুখস্মৃতি উপভোগের লোভ !


এ লেখায় কোন ভুলভ্রান্তি হলে অভিজ্ঞ কেউ সেটা ধরিয়ে দেবেন এই আশা রইল।

বাকি অংশটি এখানে পডু়ন…

Posted in বাঙাল | 1 Comment »

বর্ণে গন্ধে ছন্দে গীতিতে

Posted by bangalnama on September 13, 2010


– লিখেছেন ইন্দ্রনাথ মুখার্জী


কবীর সুমন লিখেছিলেন, “অসম্ভব”। শচীনকর্তার গান (এবং সুকুমার রায়ের লেখা) সুমনকে নিরঙ্কুশভাবে অসম্ভবের স্বাদ দেয়। আনন্দ বক্সী বলেছিলেন, “Sachin da is simply the best”। এখানেও সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ শব্দটা বোধহয় ‘simply’। সুরে এবং গায়কীতে ঐশ্বরিক সারল্যের যে মাধুর্য্য-স্বাদ শচীনকর্তা রেখে গেছেন তার নজির মেলা ভার। কিন্তু এমন জোয়ারিতে ভরপুর তীক্ষ্ণ কন্ঠ তিনি পেলেন কোথা থেকে?


কথা ছিলো রাজা হওয়ার, রাজার ছেলে কিনা। ত্রিপুরার রাজা ঈশানচন্দ্রমাণিক্যর মৃত্যুর সময়ে নাবালক ছিলেন তাঁর দুই পুত্র ব্রজেন্দ্র এবং নবদ্বীপচন্দ্র – তাই রাজা হিসাবে মনোনীত হন ঈশানচন্দ্রের ভাই বীরচন্দ্র। সেই নিয়ে মামলা হয় এবং তাতে জিতলেন বীরচন্দ্র। এরপর নবদ্বীপচন্দ্র মা কে সঙ্গে নিয়ে কুমিল্লা চলে আসেন।

বাকি অংশটি এখানে পডু়ন…

Posted in বাঙাল | 1 Comment »

বাঙালনামা’র সঙ্গে আলাপচারিতায় সুকুমার সমাজপতি – শেষ পর্ব

Posted by bangalnama on September 13, 2010


সাক্ষাৎকার নিয়েছেন – অনির্বাণ দাশগুপ্ত

(প্রথম পর্বের পর)


বাঙালনামা।। ওই ১৯৬১-তেই তো মারডেকাতে ভারতীয় দলের হয়ে খেলতে যান। কেমন লেগেছিল প্রথমবার দেশের হয়ে মাঠে নামতে?


সুকুমার সমাজপতি।। সেটা সম্পূর্ণ অন্য একটা অভিজ্ঞতা। ক্লাবের হয়ে খেলা আর দেশের হয়ে খেলার মধ্যে একটা পার্থক্য তো আছেই। দেশের হয়ে খেলার সময়ে তুমি একটা গোটা দেশকে রিপ্রেজেন্ট করো। ১৯৬১-তে মারডেকা খেলার সময়ে আমাদের কোচ রহিম সাহেবের কাছে আমার নামে রটনা হ্য় যে আমি নাকি চোখে বল দেখতে পাইনা। মারডেকার ম্যাচগুলো সবই হত সন্ধ্যাবেলায় বা রাতে, ফ্লাডলাইটের আলোয়। এই রটনা আমার কেরিয়ারে পরের বছর, অর্থাৎ ১৯৬২-তে যে কত ক্ষতি করে তা তুলনারহিত।


বাঙালনামা।। ১৯৬২-তে ভারতীয় ফুটবল দলের শেষ বড় অ্যাচিভমেন্ট জাকার্তা এশিয়ান গেমসে সোনা জেতা। সেই দলে আপনার সুযোগ না পাওয়ার পেছনে কি এই ষড়যন্ত্র বা রটনার কোনো ভূমিকা ছিল?


সুকুমার সমাজপতি।। আমার জীবনে সবচেয়ে যন্ত্রণার এবং শকিং ঘটনা হল ১৯৬২-তে এশিয়ান গেমসে ভারতীয় দলে চান্স না পাওয়া। আমার বিরুদ্ধে হওয়া রটনা বা ষড়যন্ত্রের ইন্টেন্সিটি এত প্রবল ছিল যে তাতে রহিম সাহেবের মত মানুষও প্রভাবিত হয়েছিলেন। মনে আছে টীম থেকে বাদ পড়ার খবর পেয়ে অঝোরে কেঁদেছিলাম। অসম্ভব মন খারাপ হয়েছিল। ইনফ্যাক্ট, এই ঘটনার ক্ষত আমার জীবনে কোনোদিনই নিরাময় হবে না। এখনো যখন কোনো অনুষ্ঠানে বা আড্ডাতে ১৯৬২-এর এশিয়ান গেমসের কথা ওঠে, আমি মাথা নিচু করে সেখান থেকে সরে আসি। কিছু কিছু যন্ত্রণার স্থায়িত্ব আমৃত্যু রয়ে যায়, এটা সেরকম।

বাকি অংশটি এখানে পডু়ন…

Posted in বাঙাল | 1 Comment »

বাঙালবৃত্তান্ত – পর্ব তিন

Posted by bangalnama on September 13, 2010


– লিখেছেন রঞ্জন রায়

(দ্বিতীয় পর্বের পর)


সতীনের নাম আরশোলা


সুষমা মারা গেছেন। খবরটা পেয়ে উদাস হয়ে সিগ্রেট ধরাতেই গিন্নি বল্লেন- কি, হয়েছেটা কি?


আমি বল্লাম যে নিজের সময়ের আগে জন্মানো একজন এই দুনিয়া থেকে পাততাড়ি গোটালেন। তারপর এই সুষমাটি কে? আমার সঙ্গে কিসের সম্পর্ক? – এইসব বাঁধাগতের হাবিজাবি কথা উঠতেই আমি ঠাকুমার একটি ছড়া ঝাড়লাম, — উনি আমার কি লাগেন? ঠাকুরবাড়ির গাই লাগেন।


তারপর বল্লাম যে উনি আমার কলকাতার পাতিপুকুর অঞ্চলের সেজপিসেমশায়ের সৎবোন, আবার ছত্তিশগড়ের রায়পুর শহরের দূর্গা কলেজের রেজিস্ট্রার কারকুনদা’র সৎমা। গিন্নি বিরক্ত হয়ে বল্লেন- পারো বটে খুঁজে খুঁজে আত্মীয় পাতাতে।


– বাজে বোকো না। বালকবয়সে আমি পাতিপুকুর বাড়ি গিয়ে ওনার জন্মসূত্রে অস্বাভাবিক মেয়ে নিশার ভাইফোঁটা নিয়েছি। এখন চিনিনা বললে চলবে? ধম্মে সইবে? তার চেয়ে লিপটনের চা বানাও আর সুষমার গপ্পো শোনো।

বাকি অংশটি এখানে পডু়ন…

Posted in কলকাতা, ফিরে দেখা, বাঙাল, ময়মনসিংহ, সাহিত্য | Leave a Comment »

নবগঙ্গা থেকে আদিগঙ্গা, ভুঁইফোঁড়দের সুলুক-সন্ধান*

Posted by bangalnama on September 13, 2010


– লিখেছেন রবি-দা


গড়ের মাঠ থেকে শিয়ালদা স্টেশন, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল থেকে ঠনঠনে কালীবাড়ি জোরে দাপিয়ে বেড়িয়েছে আমার উদ্বাস্তু শৈশব – খালি পায়ে এবং পায়ে পায়ে হেঁটে – যার স্মৃতি রোমন্থন করেই শুধু কাটিয়ে নেওয়া যায় অবসরের অলস দুপুর আর খুঁচিয়ে দেওয়া যায় স্বপ্নপূরণের খিদেটাকে। হাঁটা শিখেছিলাম নিজের অজান্তে, দুর্বিসহ যন্ত্রণার মধ্যে – গেদে থেকে ঠাকুমার হাত ধরে লং রুট মার্চের প্রশিক্ষণ, অচেনা পথ চলার হাতেখড়ি। শুনেছিলাম কিছু একটা গাড়ি থাকবে বর্ডারে, ছিলও সত্যি সত্যি, কিন্তু ছিল না দশজন মানুষের হঠাৎ করে কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়া ভাড়া দেওয়ার ক্ষমতা। যা ছিল তার বেশিটাই তো কেড়েকুড়ে নিয়েছিল আগেই, আর মওকা বুঝে স্বাধীন ভারতের নতুন প্রভাতে ধনী হওয়ার স্বপ্নে বিভোর কিছু বণিক কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিল বাস/ট্রাকের ভাড়া – কারণ চাহিদা আর যোগানের দাবিটা ছিল দিনের আলোর মত পরিষ্কার। রেলপথ বন্ধ কিন্তু আরোহীর অভাব ছিল না। খাদ্যের খোঁজে বেরনো লাল পিঁপড়ের সারির মতই আদুর গায়ের মানুষের মহামিছিল থেকেই শুরু হল আমার নতুন জীবন – “বাঙাল”-এ রূপান্তর। ওই মিছিল থেকেই খালি গায়ে, খালি পায়ে আর খালি পেটে সেই বাঙাল ঘুরে দাঁড়াবার মন্ত্র শিখেছিল বেওয়ারিশ পাঠশালায়।

বাকি অংশটি এখানে পডু়ন…

Posted in বাঙাল | 10 Comments »

সেই সময়ের গল্প – পর্ব দুই

Posted by bangalnama on September 13, 2010


– লিখেছেন সন্তোষ কুমার রায়

(প্রথম পর্বের পর)


শৈশব কৈশোরের অনেকটা সময়ই কাটিয়েছি মামার বাড়িতে। সেখানে থাকার কারণ ছিল। আমি যখন বছর তিনেকের বা তার একটু বেশী তখন আমার পরের ভাই হল। পাবনার একান্নবর্তী পরিবারের সব কাজ সামলে দু’টি সন্তানকে দেখাশোনা করা মায়ের পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। এছাড়া আমার মামার বাড়িতে তখন ছিল একটা শিশুর অভাব। মামারা সবাই প্রায় বড় হয়ে গেছেন আর তাঁদের সন্তানসন্ততিও হয়নি। সুতরাং আমাকে আনা হয়েছিল। তখন আমার বয়স পাঁচ বছর বা তারও কম। মাঝে মাঝে পাবনায় আসতাম কিছু দিনের জন্য।


অক্ষর পরিচয় হয়েছিল দাদু (দাদামশায়)র কাছে আর প্রাথমিক শিক্ষা গ্রামের পাঠশালায় – যার নাম ছিল ‘রামসুন্দরের পাঠশালা’। রামসুন্দরবাবু ছিলেন ঐ পাঠশালার ‘বড়মাস্টার’। তাই ঐ নাম।


মাতৃস্নেহ আর দিদিমার স্নেহ একত্রে পেয়েছিলাম দিদিমার কাছ থেকে। তিনি দিদিমা অপেক্ষা ‘দিদিমনি’ ডাকটাই বেশী পছন্দ করতেন। তাই তিনি আমার দিদিমনি ছিলেন এবং দ্রুত উচ্চারিত হওয়ার কারণে অচিরেই দিদিমনি ‘দিয়ানি’ হয়ে গেলেন।

বাকি অংশটি এখানে পডু়ন…

Posted in বাঙাল | 1 Comment »

আমোদিনী’র হেঁশেল – চতুর্থ পর্ব

Posted by bangalnama on September 13, 2010


লেখা ও ছবি – দেবলীনা সেন

(তৃতীয় পর্বের পর)


শুভদিনের ভোজ


ছেলেমেয়েরা কয়েকদিন পরীক্ষা নিয়ে খুব ব্যস্ত ছিল। আদা-জল খেয়ে পড়াশুনা করেছে এবং পরীক্ষার ফলাফল সকলেই মোটামুটি ভাল করেছে। গণু বড়ই ফাঁকিবাজ, আমোদিনী ওনার মেজ ছেলেকে চোখে চোখে রাখেন। তাতে এবারও কাজ হয়েছে, গণু ফার্স্ট ডিভিশানে পাশ করেছে।


পারুলের পড়ায় বিশেষ মন নেই, কিন্তু মেয়েটা সত্যিই খাটতে পারে। সবরকমের কাজে ওকে পরিশ্রম করতে হয়। পরিশ্রমই যেন পারুলের সাধনা।


গৌরী সবচেয়ে ছোট – খুব আদুরে মেয়ে। পরীক্ষার রেজাল্ট যেদিন বেরোয়, বাবাকে এসে খুব খুশিভাবে বলেছে, “বাবা, আমি পাশও না, ফেলও না।” এই অদ্ভুত খবর সকলের কানে পৌঁছাতেই সকলে এগিয়ে এল জানতে যে ব্যাপারটা কী।

বাকি অংশটি এখানে পডু়ন…

Posted in বাঙাল | 8 Comments »

অবিস্মরণীয় তেভাগা সংগ্রাম ও দিনাজপুর

Posted by bangalnama on September 13, 2010


– সুশীল সেন


সম্প্রতি বালুরঘাটের খাঁপুর গ্রামে তেভাগা সংগ্রামের রজত জয়ন্তী পালিত হইল। এই খাঁপুর গ্রামে ১৯৪৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সশস্ত্র পুলিশ ঐ সংগ্রাম দমনের জন্য কৃষকদের উপর একদিনে ১২১ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করিয়া ২২ জন কৃষককে হত্যা করে। আহতদের বালুরঘাট হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার মৃত্যুপথযাত্রী একজন কৃষককে তাঁহার শেষ ইচ্ছা জানিবার জন্য জিজ্ঞাসা করিলেন — “আপনি কী চান?” ক্ষীণকন্ঠে সংগ্রামী কৃষকটি উত্তর দিলেন– “তেভাগা চাই।” তারপরই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সেদিন তেভাগার দাবি ঐ জিলার নিপীড়িত কৃষকদের মনে কত গভীর রেখাপাত করিয়াছিল তাহা ঐ উক্তি হইতেই উপলব্ধি করা যায়।


১৯৪৬-৪৭ সালের ধানকাটার মরশুমের সেই অবিস্মরণীয় দিনগুলিতে অবিভক্ত বাংলার প্রায় ১৯টি জিলার কৃষকরা ঐ তেভাগা সংগ্রামে যোগদান করে। সংগ্রামের প্রধান এলাকা ছিল উত্তরবঙ্গ — দিনাজপুর, রংপুর ও জলপাইগুড়ি জিলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল। ঐ অঞ্চলে বর্গাদাররা আধিয়ার নামে পরিচিত। আর এই আধিয়ার কৃষকদের অধিকাংশই ছিল রাজবংশী বা ক্ষত্রিয় এবং সাঁওতাল। কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে এবং কৃষক সমিতির পরিচালনায় ঐ সংগ্রাম সংগঠিত হইয়াছিল। সামন্ততান্ত্রিক ভূমি ব্যবস্থার সীমাহীন শোষণের বিরুদ্ধে নিপীড়িত কৃষকদের বীরত্বপূর্ণ বিদ্রোহের যে ব্যাপক বিস্ফোরণ সেদিন ঘটিয়াছিল তাহা অভূতপূর্ব ও অবিস্মরণীয়। অবিভক্ত দিনাজপুর জেলার ৩০টি থানার মধ্যে ২২টি থানার আধিয়ার কৃষকরা ঐ সংগ্রামে যোগ দেয়। ঐ এক জিলাতেই চারটি অঞ্চলে পুলিশের গুলিতে ৪০ জন কৃষক শহীদ হয়। দুই হাজার কৃষক কারাবরণ করে। শত শত কৃষক কর্মী গ্রেপ্তারী পরোয়ানা উপেক্ষা করিয়া সংগ্রাম পরিচালনা করেন ও আত্মগোপন করিয়া থাকেন। কৃষকদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলা দায়ের হয়। স্বাধীনতা লাভের পর ঐ সকল মামলা ও ওয়ারেন্ট প্রত্যাহৃত হয়।

বাকি অংশটি এখানে পডু়ন…

Posted in বাঙাল | Leave a Comment »

 
%d bloggers like this: